ভারতের মহারাষ্ট্রে অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অষ্টম আসর শুরু হয়েছিল বুধবার। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে বাংলাদেশের দুটি সিনেমা। এগুলো হলো খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’ ও নূর ইমরান মিঠুর ‘পাতালঘর’। সিনেমা দুটি এ উৎসবের ফিপ্রেসকি বিভাগে প্রতিযোগিতা করছে। এরই মাঝে উৎসবের দ্বিতীয় দিন সাঁতাও ও তৃতীয় দিন পাতালঘর দেখানো হয়েছে।
ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সমালোচক প্রেমেন্দ্র মজুমদার ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবের উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতার দায়িত্ব পালন করেন। অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অষ্টম আসরেও উপদেষ্টা হিসেবে আছেন তিনি। এ উৎসব নিয়ে তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের আওরাঙ্গাবাদ শহরে এ চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজিত হয়। ১০ বছর ধরে উৎসবটি চলছে। কভিড-১৯-এর কারণে দুই বছর এ চলচ্চিত্র উৎসব না হলেও এবারে বেশ সমারোহে হচ্ছে। ভারতীয় সিনেমা ও আন্তর্জাতিক সিনেমার জন্য দুটি প্রতিযোগিতা হয় এ উৎসবে। আন্তর্জাতিক সিনেমাগুলোর জন্য ফিপ্রেসকি ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।’
বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে প্রেমেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমি নিয়মিত বাংলাদেশের সিনেমা দেখি। বাংলাদেশের যে দুটি সিনেমা এ উৎসবে প্রতিযোগিতা করছে, সেগুলো আমার দেখা। এই দেশে ভিন্নধারার চলচ্চিত্র যারা নির্মাণ করেন, তাদের সব সিনেমাই আমার প্রথম থেকে দেখা। সাঁতাও ও পাতালঘর এ দুটিও খুব ভালো হয়েছে।’
সিনেমা দুটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মিঠু সাধারণত অন্য ধারার সিনেমা নির্মাণ করে। পাতাল ঘর দেখেও আমার খুব ভালো লেগেছে। অন্যদিকে খন্দকার সুমনের প্রথম সিনেমা সাঁতাও অনেক ভালো হয়েছে। সিনেমাটা নির্মাণের সময়ই আমি এ সম্পর্কে জানি। বাংলাদেশের নতুন পরিচালকরা খুবই ভালো করছে।’
গত নভেম্বরের শেষে এশিয়ার অন্যতম চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া (আইএফএফআই) অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতের গোয়ায়। ওই উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল সাঁতাও ও পাতালঘর, সেখানেও দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল সিনেমা দুটি।
সাঁতাও নিয়ে খন্দকার সুমন বলেন, ‘অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা করছে সাঁতাও, নিঃসন্দেহে এটা আমাদের জন্য সুখবর। তবে আমি উৎসবে অংশ নিতে পারিনি ছবিটির প্রচারণার জন্য। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সাঁতাও দেখানো হয়েছে এবং উৎসবের শেষ দিনেও এটা দেখানো হবে। ২৭ জানুয়ারি সাঁতাও আমাদের দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এটা গণমানুষের সিনেমা। যাদের জন্য এ সিনেমা, আমি তাদের হলে গিয়ে এটা দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
নূর ইমরান মিঠু পরিচালিত প্রথম সিনেমা কমলা রকেট। তার দ্বিতীয় সিনেমা পাতালঘর রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাতালঘর নিয়ে নূর ইমরান মিঠু বলেন, ‘এটা আনন্দের খবর। এর আগে গোয়াতে সিনেমাটার প্রিমিয়ার হয়েছিল। করোনার সময়ে আমি নিজ বাড়িতেই পাতালঘরের শুটিং করেছিলাম। কিশোর বয়সে আমার দেখা চারপাশের অবস্থা নিয়ে একটা ফিকশন করার চেষ্টা করেছি এ সিনেমায়। আমার ফেলে আশা কৈশোরের দেখা নানা বিষয় আমি এখানে দেখাতে পেরেছি। পাতালঘর করোনাকালীন সময়ের একটা গল্প। আমার জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কল্পনার মিশেলেই সিনেমাটার গল্প এগিয়েছে। আমি নিজের দেখা পৃথিবীর গল্প নিয়েই ছবি নির্মাণের চেষ্টা করি সবসময়।’
পাতালঘর সিনেমা মা ও মেয়ের গল্পকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। তারকাবহুল এ সিনেমার শুটিং সম্পন্ন হয়েছে ২০২০ সালের অক্টোবরে নির্মাতার নিজ বাড়ি রাজবাড়িতে। এ সিনেমায় নুসরাত ফারিয়া অভিনয় করেছেন একজন নায়িকার চরিত্রে এবং তার মায়ের চরিত্রে আছেন আফসানা মিমি। এছাড়াও অভিনয় করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, মামুনুল হক, রওনক হাসান, অর্ষা প্রমুখ।
অন্যদিকে খন্দকার সুমন পরিচালিত গণঅর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ‘সাঁতাও’-এর ট্রেলার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন চিত্রায়ণের প্রয়াসেই নির্মিত হয়েছে এ সিনেমা। কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় আবর্তিত হয়েছে সাঁতাওয়ের কাহিনী। সাঁতাওয়ের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক। এর অন্যান্য চরিত্রে আছেন আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, মো. সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, শ্রাবণী দাস রিমি, তাসমিতা শিমু, কামরুজ্জামানসহ অনেকে।










