আবুল বাশারের উপন্যাস ‘পবিত্র অসুখ’ অবলম্বনে তৈরি এ ধারাবাহিকের নাট্যরূপ দিয়েছেন মনসুর রহমান চঞ্চল। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রাকেশ বসু।

নাটকটি নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে মম বলেন, ‘চাওয়া পাওয়া ধারাবাহিক নিয়ে সবচেয়ে বড় চাওয়া—মানুষ নাটকটা দেখবে, পছন্দ করবে। সবচেয়ে বড় পাওয়াটা তখন হবে, যখন মানুষ নাটকটি ভালোবেসে আমাদের আপন করে নেবে।’

নাটকে মম অভিনয় করেছেন এমন একটি চরিত্রে, যিনি আবৃত্তি ভালো পারেন এবং আগে থেকেই কবি হাসান আরিফের কবিতার ভক্ত। গল্পে মম থিয়েটার সংগঠক জামিল হোসেনের বাগ্‌দত্তা, পাশাপাশি জামিলের থিয়েটার দলের একজন অভিনেত্রীও তিনি। জামিলের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রেই একদিন কবি হাসানের সঙ্গে দেখা হয় মমের। এরপর হাসানের প্রতি মমর টান টের পেয়ে জামিল তড়িঘড়ি করে তাকে বিয়ে করে ফেলেন, আর সেখান থেকেই গল্পে তৈরি হয় নতুন এক মোড়।

মম ও জামিলের এ সম্পর্কের বাইরেও নাটকে আছে আরেকটি প্রেমকাহিনী, যাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গল্পের মূল কাঠামো। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, হাসান আরিফ বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। পেশায় সাংবাদিক, পাশাপাশি বেশ জনপ্রিয় একজন কবিও তিনি। বাবা রাজীব হাসান ছিলেন সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার। বড়লোক পরিবারের একমাত্র মেয়ে রেজোয়ানা চৌধুরী রাজীবকে ভালোবেসে ঘর ছেড়েছিলেন, আর রাজীবের মৃত্যুর পর অনেক কষ্ট করে হাসানকে বড় করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মেধা নামের এক তরুণী কবি হাসানের কবিতার প্রেমে পড়ে, হাসানও মুগ্ধ হয় মেধার সরলতা আর সৌন্দর্যে। কিন্তু মেধাকে পছন্দ করত তারই সহপাঠী রূপক, যিনি ক্ষমতার জোরে তাদের সম্পর্ক ভেঙে দেয়।

এরপর একদিন হাসান পত্রিকায় একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন হাসানের পত্রিকা অফিসের মালিক ও জামিল নিজেও। সুনাম বাঁচাতে জামিল ও তার সহযোগীরা মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে হাসানকে গণধোলাই দেয়, আর এরপর থেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন হাসান। এভাবেই এগিয়ে যাবে ‘চাওয়া পাওয়া’র গল্প।

মমর সঙ্গে আরো অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, মীর রাব্বী, ডলি জহুর, মনির আহমেদ শাকিল, শিরতাজ জাহান জেবিন, আনোয়ার শাহী, মিনু রাজু, অদিতি জামান স্নেহা ও তুষার খান।

এনটিভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহে সোম, মঙ্গল ও বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে প্রচারিত হবে ধারাবাহিকটি।