অভিনেত্রী জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। সম্প্রতি বঙ্গে মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় প্রীতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ওয়েব ফিল্ম ও অন্যান্য কাজ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন জিন্নাত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
অভিনয়ে আসার শুরুর গল্পটা যদি বলতেন?
সত্যি বলতে আগে থেকে কোনো প্ল্যান ছিল না। পরিবারে কেউ মিডিয়ায় ছিল না, তাই তখন এটা ভাবা হয়নি। ২০২৩-এ ভার্সিটিতে সিনিয়রদের মাধ্যমে শখের বশে কাজ শুরু করি। তখন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু কাজগুলোর পর ভালো ফিডব্যাক পেয়ে নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাস এল। এরপর ধীরে ধীরে আরো কাজ করতে থাকি এবং অভিনয়ের প্রতি একটা ভালোবাসা তৈরি হয়। পরে বুঝতে পারি, আমি শিখতে চাই, নিজেকে ভাঙতে চাই বিভিন্ন চরিত্রে, সেখান থেকেই স্বপ্নটা জন্ম নেয়।
বঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছেন, কেমন লাগছে?
এতটা ভালোবাসা পাব ভাবিনি। শুটিংয়ের সময় ফয়সাল ভাই অনেক শাসন করেছেন। তখন মনে হতো পারছি না বলেই শাসন করছেন। কিন্তু এখন দর্শক যখন প্রশংসা করছেন, মনে হচ্ছে সেই কষ্টগুলো আসলেই সার্থক হয়েছে। ফয়সাল ভাইও বলেছেন, শাসন না করলে হয়তো আমার ভেতরের ট্যালেন্টটা এভাবে বের হতো না। দর্শকের এ ভালোবাসা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করছে। সামনে আরো ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি।
এ ওয়েব ফিল্মের চরিত্রের কোন দিকটা সবচেয়ে বেশি টেনেছিল?
গল্পটা পড়ে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। স্ক্রিপ্টটা এত ভালো লেগেছিল যে মনে হয়েছিল এত সুন্দর গল্পে কাজ করার সুযোগটাই অনেক বড় ব্যাপার। আমি সবসময় চাইতাম একটু ইউনিক কিছু করতে, থ্রিলার, হরর বা অ্যাকশন ধরনের। তাই থ্রিলার অংশটা প্রথমেই খুব আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু পরে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক, বিশেষ করে বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দিকটা আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল।
আমি মনে করি প্রতিটি চরিত্র তাদের নিজস্ব জায়গা থেকে গল্পটাকে শক্তিশালী করেছে, আর টিমের সহযোগিতাতেই কাজটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ফয়সাল আগুনের নির্দেশনার পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বলুন।
ওনার সঙ্গে আমি আগেও কাজ করেছি। ওনার স্টাইল সত্যিই অসাধারণ। একটা সিন দশবার নিতে হলে উনি দশবারই নেবেন, যতক্ষণ না চরিত্র ও গল্প ঠিকভাবে ফুটে উঠছে। তিনি কাজকে অনেক যত্ন ও দায়িত্ব নিয়ে করেন, আর শিল্পীদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনেন।
এখন পর্যন্ত কী কী কাজ করেছেন?
শুরু ‘খোঁচা’ নাটকে, সেখানে ‘যুথী’ চরিত্রে একটা ছোট্ট সিন ছিল। তারপর সুজিত বিশ্বাসের লেখা ও পরিচালনায় ‘ফাঁপড় পয়েন্ট’ সিরিয়াল। এরপর ফয়সাল আগুনের পরিচালনায় ‘সাগর বিলাস’, আরো আছে শামস করিমের পরিচালনায় ‘রঙ্গিলা পুতুল’, শামীম জামানের পরিচালনায় ‘সাদী মোবারক’, সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’, আকাশ রঞ্জনের কয়েকটি সিঙ্গেল নাটকে মূল চরিত্রে কাজ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন প্রজেক্টে প্যারালাল লিড চরিত্রেও কাজ করেছি।
একটা নতুন চরিত্র হাতে পেলে সেটার প্রস্তুতি কীভাবে নেন?
প্রথমে চরিত্র ও স্ক্রিপ্ট পড়ি, নিজেকে ওই চরিত্রের মধ্যে কল্পনা করি, গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালগ প্র্যাকটিস করি, সম্ভব হলে আয়নার সামনে ডায়ালগ বলি। সবসময় সম্ভব না হলেও যতটা পারি করি। আমার কাছে মূল কথা—স্ক্রিপ্ট বারবার পড়ে চরিত্রটা বুঝে ধারণ করা।
ইন্ডাস্ট্রিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাদের আইডল মানেন?
অনেকের অভিনয়ই ভালো লাগে, বিশেষ করে কেয়া পায়েল আপু, তটিনী আপু। তাদের কাজ দেখি, তাদের কাছ থেকে শিখি। কিন্তু আইডল বললে মোশাররফ করিম ভাইয়া। উনাকে আমার কাছে জীবন্ত বই মনে হয়।
অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
এমন একজন অভিনেত্রী হওয়া, যিনি যেকোনো ধরনের চরিত্র করতে পারেন। নিজেকে বিভিন্ন চরিত্রে ভাঙতে চাই, চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করতে চাই। অভিনয় এখন প্যাশন, তাই সামনে যত ভালো ও কঠিন চরিত্র করা যায়।
সামনে কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন?
চাই দর্শক আমাকে প্রতিটা চরিত্রে নতুনভাবে দেখুক। এমন চরিত্র করতে চাই, যেটা দেখার পর পরের চরিত্রে দর্শক একটু কনফিউজড হয়ে যায়—এটা কি সেই জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী? ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় প্রীতিকে যেভাবে ভালোবেসেছে, ভবিষ্যতে প্রতিটা চরিত্রকেও দর্শক যেন আলাদাভাবে ভালোবাসে। প্রতিটা চরিত্রই আমার কাছে আলাদা একটা মানুষ মনে হয়, তাই প্রতিটা চরিত্র সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলে দর্শকের সামনে আনা আমার মূল লক্ষ্য।
প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় অনেক তরুণী এখন অভিনয়ে আসছেন। এই ভিড়ের মধ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করেন?
আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকে তার জায়গায় সেরা। আমি আমার জায়গায় বেস্ট—এ বিশ্বাস নিয়েই এগোতে চাই। অন্য কারো সঙ্গে তুলনা না করে নিজের প্যাশন ও পরিশ্রমের ওপর ফোকাস রাখতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য অন্য কাউকে হারানোর দরকার নেই। আমি জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী—আমি একজনই। যদি আমার সেরাটা দিতে পারি, দর্শক আমাকে অবশ্যই গ্রহণ করবেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি আর কী করছেন?
অভিনয়ের পাশাপাশি আমি আমার পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আমি অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছি। অভিনয় আর পড়াশোনা—দুটোই একসঙ্গে ব্যালান্স করে চলার চেষ্টা করছি।










