মস্কোজয়ী ‘আদিম’ দেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ২৬ মে। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা যুবরাজ শামীম। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন নির্মাতা। পোস্টার প্রকাশের পর এবার এল সিনেমাটির ট্রেলার। ২ মিনিটের ট্রেলারটি এরই মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছে। ধূসর রঙের আবেশে সহজ জীবনবোধের গল্প উঠে এসেছে সিনেমাটির ট্রেলারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদিমের ট্রেলার শেয়ার করছেন অনেকেই। আদিমের গল্পটা টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠবস্তির বাসিন্দাদের নিয়ে। এতে অভিনয়ও করেছেন বস্তির বাসিন্দারাই।
ট্রেলার প্রসঙ্গে যুবরাজ শামীম বলেন, ‘আদিমের ট্রেলার উন্মোচনের পর সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি সিনেমা নিয়ে যারা খোঁজখবর রাখেন এমন বহুজন আমাকে ফোনে, মেসেঞ্জারে প্রশংসা করেছেন; শুভকামনা জানিয়েছেন। এসব আমাকে ভীষণ আবেগাপ্লুত করেছে। আমি শুরু থেকেই আদিমের প্রচারণা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কারণ একটি সিনেমার প্রচারণায় জনপ্রিয় তারকা ও আরো যে অনুষঙ্গের দরকার হয় সে অর্থে কোনোটাই আমার নেই। আমি একদমই ভাবিনি আদিমের ট্রেলার রিলিজ দেয়ার সময় এত মানুষ নিজেদের ওয়ালে তা শেয়ার করবে। বিষয়টি সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। ট্রেলার নির্মাণে মেজবাউর রহমান সুমন, সজল অলোক ও রাশীদ শরীফ সোয়েব আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।’
গণঅর্থায়নে নির্মিত হয়েছে আদিম। আদিমের কাজ করতে গিয়ে নানা আর্থিক জটিলতার মধ্য দিয়ে গেছেন এ নির্মাতা। সিনেমাটির নির্মাণ বিষয়ে অর্থায়নের জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এর শেয়ার বিক্রি করে ২০১৮ সালে শুটিং শুরু হয়। এটি নির্মাণে সাধারণ মানুষের অবদান প্রসঙ্গে যুবরাজ বলেন, ‘আদিম নির্মাণ শুরু থেকে রিলিজ পর্যন্ত আমার পাশে ছিলেন সাধারণ মানুষ। শুধু অর্থ নয়, সাহস দিয়েও পাশে ছিল তারা। মানুষের সহায়তায় পুরোপুরি একটা সিনেমা হয়ে গেল, এটা ভাবলে আশ্চর্য লাগে।’
সিনেমার মুক্তি সামনে রেখে এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ কর্তৃপক্ষ অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শুরু করেছে। বর্তমানে অনেক নির্মাতাই সিনেমা নির্মাণের পর হল পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় থাকেন। আদিমের মুক্তি এবং হল পাওয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘একেবারেই না। আমি সিনেমাটা নির্মাণের সময় ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার কথা ভাবিনি। ভাবলে আমি ধুমধাড়াক্কা সিনেমাই নির্মাণ করতাম। এমনকি আমি দর্শকের কথাও ভাবিনি, বরং সিনেমার গল্পটা তুলে ধরতেই মনোযোগ দিয়েছি। তাহলে এখন এসে আমি কেন চ্যালেঞ্জ অনুভব করব। হল মালিক কিংবা সিনেপ্লেক্স মালিকরা তো ব্যবসায়িক বিষয়টি দেখবেনই। এ নিয়ে তাদের দোষারোপ করার কিছু নেই। তাই আমার ভেতরে কোনো চাপ, অভিমান বা দুশ্চিন্তা কিছুই নেই এ সিনেমা নিয়ে। আমরা ২৬ মে সিনেমাটা মুক্তি দেব, এটা নিশ্চিত। কোথাও না হলেও নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপে সিনেমাটা মুক্তি পাবে। অনেক মানুষের কাছেই আদিমের নামটা পৌঁছে গেছে, যারা মূলত সিনেমাটা দেখতে আগ্রহী। কিছু মানুষ তো সিনেমাটা দেখবেই।’
ল্যাংড়া চরিত্রে বাদশা ছাড়াও আদিমের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুলাল, সোহাগী, সাদেক প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণে ছিলেন আমির হামযা। সাউন্ড ও কালারে সুজন মাহমুদ।
গণঅর্থায়নে নির্মাতার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রসায়নের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির সহপ্রযোজক হিসেবে সিনেমাকার ও লোটাস ফিল্ম যুক্ত আছে বলেও জানান যুবরাজ। আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলেছিল যুবরাজ শামীমের এ সিনেমা। গত বছর ৪৪তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয় ‘আদিম’। এ উৎসবে সিলভার সেন্ট জর্জ অ্যাওয়ার্ড ও নেটপ্যাক সম্মাননা অর্জন করে নেয় সিনেমাটি। নভেম্বরে কুইন্স ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে আদিম। সর্বশেষ আদিম দিল্লির ‘হ্যাবিটেড আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া বুলগেরিয়ার ৩১তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল লাভ ইজ ফোলির ইন্টারন্যাশনাল কমপিটিশন বিভাগে আদিম মনোনীত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা।










