ঈদ উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মিছিলে রয়েছে একাধিক সিনেমা। টেলিভিশনের পর্দায়ও চলচ্চিত্রের টিভি প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। এ ঈদে চ্যানেল আইতে টিভি প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে মোহাম্মদ রাব্বি মৃধার ‘পায়ের তলায় মাটি নাই’। একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হিয়েছে সিনেমাটি। এর সঙ্গে প্রাপ্তি হিসেবে জুটেছে একাধিক পুরস্কার। সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী দীপান্বিতা মার্টিন, মোস্তফা মনোয়ার, প্রিয়াম অর্চি প্রমুখ। তারকাবহুল এ সিনেমা দর্শক ঈদের তৃতীয় দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় দেখতে পাবেন।
সিনেমাটি নিয়ে মোহাম্মদ রাব্বি মৃধা বলেন, ‘এটা আমার প্রথম সিনেমা। আমি এটা নিয়ে খুব এক্সাইটেড। বাংলাদেশের মানুষ যতক্ষণ না সিনেমাটা দেখবে, এটা সম্পূর্ণ হবে না। দেশের বাইরে তো এটা সাড়া পেয়েছে, এখন দেশের মানুষ একে কীভাবে নেয়, সেটা দেখার পালা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একটা মানুষের জীবনে যে প্রভাব পড়ে তারই আলোকে এ সিনেমা। একটা চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক গল্প দেখিয়েছি। এখানে আমি মানুষের গল্প বলতে চেয়েছি, যাতে মানুষ তার জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারে।’
কোনো রকমের সংশোধন ছাড়াই গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে সেন্সর পায় ‘পায়ের তলায় মাটি নেই’। মোহাম্মদ রাব্বি মৃধা পরিচালিত প্রথম সিনেমা এটি। সিনেমাটির চিত্রনাট্যও তার লেখা। পায়ের তলায় মাটি নাই সিনেমাটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে একজন মানুষের জীবনের টানাপড়েনের গল্প দেখানো হয়েছে। সিনেমার গল্প মূলত নায়ক সাইফুল নামের এক সাধারণ ব্যক্তিকে নিয়ে। যিনি একজন দরিদ্র অ্যাম্বুলেন্সচালক। তাকে তার দুই স্ত্রী, পরিবার, কাজ, নৈতিকতা ও সামাজিকতার নানা দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। সাইফুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তফা মনোয়ার। অন্যদিকে প্রথম স্ত্রী মিনার চরিত্রে প্রিয়াম অর্চি ও দীপান্বিতা মার্টিনকে দেখা যাবে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকায়।
সিনেমাটি নিয়ে দীপান্বিতা মার্টিন বলেন, ‘এটা আমার প্রাণের একটা সিনেমা। সত্যি বলতে এটা আমার খুব ভালোবাসার একটা সিনেমা। এ সিনেমায় আমি যে চরিত্রটা করেছি, সেটা আমার খুব পছন্দের। এটা করতে গিয়ে খুব তৃপ্তি পেয়েছি। এ চরিত্র করে আমার কাছে মনে হয়েছে, মনের মতো একটা চরিত্র পেলাম। এখন আমি আমার মতো করে কাজ করতে পারব। সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র করছি, তাই আলাদা মজা পেয়েছি। কাজটা করতে গিয়ে এমন কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে।’
মোস্তফা মনোয়ার পায়ের তলায় মাটি নাই সিনেমায় তার চরিত্র নিয়ে বণিক বার্তাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ সিনেমার গল্প যখন শুনি, তখন আমার অনেক ভালো লেগেছিল। সাইফুল চরিত্রটি আমি করেছি, যে ঢাকা শহরে মাইক্রো চালায়। বিভিন্ন যাত্রী আসে। প্রতিটা যাত্রীরই আলাদা গল্প থাকে। সাইফুলের একজন স্ত্রী আছে গ্রামে। সে যত গ্রামে ফিরে যেতে চায়, শহরে আরো আটকে পড়ে। একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে তার জীবনে। শহরেও একপর্যায়ে সে বিয়ে করে ফেলে। ঢাকা শহর, এখানকার বউ, চাকরি সব মিলিয়ে শহরে আটকে যেতে থাকে।’
বুসান (কোরিয়া), ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরু, পুনেসহ শ্রীলংকা, জাপান, নেপাল, অস্ট্রিয়া, লন্ডন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের জনপ্রিয় ১৪টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে পায়ের তলায় মাটি নাই। গত বছরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এ চলচ্চিত্র উৎসবে ডেব্যু ফিল্ম হিসেবে ফিপ্রেসকি-ইন্ডিয়া সমালোচক পুরস্কার জিতে নেয় বাংলাদেশের সিনেমা ‘পায়ের তলায় মাটি নাই’। এর আগে ‘নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর পঞ্চম আসরে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ক্যাটাগরিতে ‘গৌতম বুদ্ধ অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছিল সিনেমাটি। শ্রীলংকার জাফনা চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ সমালোচক পুরস্কার জিতেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে সুনাম কুড়িয়েছে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আবু শাহেদ ইমন। বক্স অফিস নিবেদিত আর গল্পরাজ্য ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটিতে সহযোগিতা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও বাতায়ন প্রডাকশনস।










