নতুন করে আবারো আলোচনায় এসেছে তিন দশক পুরনো এ ঘটনা। ওই ঘটনার পটভূমিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সিনেমা ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটেল ফর লিগ্যাসি’। তবে মুক্তির আগেই সিনেমাটি চরম আইনি ও সামাজিক বিতর্কে জড়িয়েছে। সিনেমাটির বিরুদ্ধে দিল্লির উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন খোদ সালমান খান।

আদালতের এ আইনি লড়াইয়ের মাঝেই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সালমানেরই দুই সাবেক সহ-অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব ও সোনু মিশ্র। উভয় অভিনেতারই মূল অভিযোগ রাজস্থানের বিষ্ণই সম্প্রদায়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আবেগের আড়ালে মূলত সালমান খানকে খাটো করা এবং সস্তা প্রচার পাওয়াই এ সিনেমার আসল উদ্দেশ্য।

গত বছর ‘সিকান্দার’ সিনেমায় সালমানের সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেতা সোনু মিশ্র। তাকে কালা হিরণ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। চরিত্রটি মূলত সালমানের কুখ্যাত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের সময়কার আদলেই তৈরি। তবে মাত্র দুদিন শুটিং করার পরই তিনি সিনেমাটি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ান।

28

সোনু মিশ্র এক সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন। তিনি বলেন, ‘দুদিন শুটিংয়ের পর আমি চুক্তিপত্র ও স্ক্রিপ্ট দেখতে চাই। সেখানে একটি অদ্ভুত ও আপত্তিকর শর্ত লেখা ছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আমাকে শুধু অভিনয় করলেই হবে না, বরং মিডিয়ার সামনেও সালমান খানের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।’ সোনু জানান, এটি প্রোপাগান্ডা ও নীতিবহির্ভূত শর্তের অংশ হওয়ায় তিনি আর সিনেমায় কাজ করছেন না।

অন্যদিকে সালমানের ব্লকবাস্টার অ্যাকশন সিনেমা ‘ওয়ান্টেড’-এর সহ-অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব এ সিনেমায় বিষ্ণই সম্প্রদায়ের একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। তবে টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের পর তিনিও সিনেমাটি সম্পূর্ণ বয়কট করেছেন।

বর্ষীয়ান এ অভিনেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাকে গল্প শোনানোর সময় মূল বিষয় থেকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ট্রেলারে সালমানের মতো দেখতে একটি চরিত্রকে যেভাবে বিকৃত ও নেতিবাচক উপায়ে দেখানো হয়েছে, তা দেখে আমি স্তব্ধ। ভাইজানের সম্মান ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো উদ্দেশ্যমূলক প্রজেক্টে আমি এক মুহূর্তও থাকব না।’

এদিকে সিনেমার প্রযোজক অমিত জানি দাবি করেছেন, তিনি সিনেমাটি বানানোর কারণে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সালমান ভক্তদের কাছ থেকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি জনসমক্ষে সালমানের পাঠানো আইনি নোটিসটিও ছিঁড়ে ফেলেন। তবে অভিনেতা সোনু মিশ্র এটিকে স্রেফ সস্তা প্রচার বা পাবলিসিটি স্টান্ট বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, গত এপ্রিলে পাঠানো নোটিসটিকে জুনে এসে বড় করার পেছনে নির্মাতাদের উদ্দেশ্য কেবল নিজেদের প্রচার করা।

সিনেমাটি যেভাবে শুরুতেই প্রোপাগান্ডা আর সস্তা প্রচারের বেড়াজালে আটকে গেছে, তাতে এর শৈল্পিক মান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিষ্ণই সম্প্রদায়ের লড়াইয়ের গল্প আড়ালে হারিয়ে গিয়ে এটি এখন পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ির হাতিয়ারে। দিল্লির উচ্চ আদালতে চলমান আইনি লড়াই এবং সর্বশেষ দুই প্রধান অভিনেতার সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় সিনেমাটির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস