পরিবেশগত বিপর্যয়, অক্সিজেন সংকট ও সম্পর্কের জটিল রসায়নকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ।
সিনেমাটির নেপথ্যে রয়েছে প্রযোজক মাহফুজ নাজিম মাপেলের ব্যক্তিগত জীবনের এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। করোনাকালে টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বাবাকে হারানোর স্মৃতি থেকেই এ কাজের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি।
মাহফুজ নাজিম মাপেল বলেন, ‘হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে আমি প্রথম উপলব্ধি করেছি, নিশ্বাস কতটা মূল্যবান। সামান্য একটু বাতাসের জন্য মানুষের লড়াইয়ের চেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য আমি আর দেখিনি। বাবাকে যে নিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারিনি, সেই অপূর্ণতার অনুভূতিই এ সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, ছবিটি দর্শকের অন্তত একবার হলেও ভাবাবে—বুকভরে শ্বাস নিতে পারাটাও কত বড় আশীর্বাদ।’
নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ জানান, সিনেমাটি কোনো কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক গল্প নয়; বরং বর্তমান বাস্তবতারই একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎচিত্র।
তিনি বলেন, ‘এটি মূলত আমাদের সময়েরই গল্প, যা সামান্য সামনে এগিয়ে দেয়া হয়েছে। সংলাপের চেয়ে দীর্ঘ স্থির ফ্রেম, বিমূর্ত দৃশ্যপট ও নিশ্বাসের শব্দকে কেন্দ্র করেই আমরা সিনেমার ভাষা নির্মাণ করেছি। দর্শক যেন অনুভূতির মধ্য দিয়েই গল্পটি উপলব্ধি করতে পারে, সেটিই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘তূর্য’-তে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, তার অক্সিজেন মাস্কের নলের শেষ প্রান্তটি যুক্ত রয়েছে কাচের পাত্রে বন্দি একটি গাছের সঙ্গে। প্রতীকী দৃশ্যটি মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টিকেই তুলে ধরে।
ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, ‘উন্নয়নের নামে আমরা যেভাবে নির্বিচারে সবুজ ধ্বংস করছি, তাতে ভবিষ্যতে অক্সিজেন সংকট আরো প্রকট হতে পারে। সে সম্ভাব্য বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এ সিনেমায়, যেখানে নিশ্বাস নেয়ার সংগ্রামই হয়ে ওঠে মূল প্রতীক।’
অন্যদিকে ‘তন্বী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ। চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তন্বী আমার কাছে প্রকৃতির দেয়া এক বিশেষ উপহার। এ কাজ আমার জীবনকে নতুনভাবে দেখতে এবং আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। পেইন্ট অন ড্রাই লিফ আমার অভিনয়জীবনের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’
নির্মাতাদের প্রত্যাশা, ভালোবাসা, যত্ন, ধরে রাখা এবং ছেড়ে দেয়ার সূক্ষ্ম বাস্তবতাকে ধারণ করা পেইন্ট অন ড্রাই লিফ দর্শককে শুধু একটি গল্পই শোনাবে না, বরং নিজের প্রতিটি নিশ্বাসের মূল্য নতুন করে অনুভব করতেও উদ্বুদ্ধ করবে।










