সবার আগে গিয়ে টিকিট নিশ্চিত করতে হবে। কীসের টিকিট? সিনেমার। কোন সিনেমা? মার্ভেলের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। হলিউডের সিনেমাটি নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের মধ্যেও উঠেছিল উন্মাদনা। সিনেমাটি প্রথম তিনদিনে বিশ্ব থেকে তুলে নেয় ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সাত বছর পর মার্ভেলের ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সে রেকর্ড প্রায় ছুঁয়ে দিয়েছে। প্রিভিউ স্ক্রিনিং ও প্রথম তিনদিন মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ওপেনিং আয় ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বক্স অফিসে সব পূর্বাভাস ভেঙে দিয়েছে। হলিউডের ক্ষেত্রে দেশীয় বক্স অফিস থেকে উদ্বোধনী সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় সবোর্চ্চ আয়। উত্তর আমেরিকার ৪ হাজার ৪৮৭টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে এ আয় এসেছে। সোমবারের চূড়ান্ত হিসাব যদি প্রাথমিক অনুমানকে ছাড়িয়ে যায়, তবে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সর্বকালের সে রেকর্ডও ভেঙে দিতে পারে (যদিও এক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা হয়নি)।
এখন পর্যন্ত আর কোনো চলচ্চিত্রই এক সপ্তাহান্তে ৩০ কোটি ডলারের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি। দেশীয় বক্স অফিসে তৃতীয় বৃহত্তম উদ্বোধনের রেকর্ড ২০২১ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর, যার আয় ছিল ২৬ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার)। অর্থাৎ, দেশীয় বক্স অফিসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারটি উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডই এখন মার্ভেল স্টুডিওসের দখলে।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ আয় করেছে ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে বিশ্বব্যাপী উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৯২৭ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাপী উদ্বোধনী আয়ের দিক থেকে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; শীর্ষে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যা প্রথম সপ্তাহান্তেই প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয় করেছিল।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ নির্মাণে সনির ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (বিপণন ব্যয় বাদে)। ‘শ্যাং-চি অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অব দ্য টেন রিংস’-এর পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শক উভয় পক্ষ থেকেই দারুণ প্রশংসা পাচ্ছে। রটেন টমেটোজে সিনেমাটির রেটিং ৯০ শতাংশ, আর সিনেমাস্কোরের এক্সিট পোলসে এটি পেয়েছে ‘এ’ গ্রেড।
মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি ও সিনেমাটির প্রযোজক কেভিন ফাইগি বলেন, ‘সত্যিই এক অসাধারণ সূচনা। বিশ্বের নানা প্রান্তের দর্শক যেভাবে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এ সাফল্য প্রমাণ করে মার্ভেলের চরিত্রগুলো এখনো দর্শকের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। আর দর্শক যেমন দেখেছে, এ চলচ্চিত্র ভবিষ্যতের আরো রোমাঞ্চকর ঘটনার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।’
পিটার পার্কার বহু আগে থেকেই দর্শকের পছন্দের চরিত্র। কমিকসের পাতা থেকে বেরিয়ে সিনেমার পর্দায়ও দর্শকের মন জুগিয়েছে সে। কোনো স্টুডিও বিপদে পড়লেই উত্তরণের জন্য স্পাইডার-ম্যানকে নিয়ে সিনেমা বানিয়েছে। এমনকি করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট অতিমারীর পর পর আসা ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ও মার্ভেল ও হলিউডকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল।
এবার গল্পে দর্শকের জন্য আগ্রহোদ্দীপক অনেক কিছুই ছিল। মার্ভেল তাদের ইউনিভার্সকে নতুন করে সাজাচ্ছে, সেই সম্পর্কে স্পাইডার-ম্যান বেশকিছু ধারণা দিয়েছে। স্পাইডার-ম্যানের এবারের গল্পটা অনেকটা রিসেটের মতো। ফলে দর্শক আগ্রহী ছিল অনেক বেশি।
এদিকে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে ঘিরে তুমুল উন্মাদনার মধ্যেও ‘দি ওডিসি’ তৃতীয় সপ্তাহে আয় করেছে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ দুটি সিনেমার সম্মিলিত সাফল্যে সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি ডলার। এটি হলিউডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ সম্মিলিত সপ্তাহান্তের আয় ছিল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর সময়, প্রায় ৪০ কোটি ডলার।
সূত্র: ভ্যারাইটি










