নানা ধরনের গল্প নিয়ে বর্তমানে সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশেও পিছিয়ে নেই। দেশের নির্মাতারা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন গল্প বলতেই বেশি উৎসাহী। ভিন্ন ধারার গল্প নিয়ে এখন দেশে অনেক কাজ হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার গল্প নিয়ে মুহাম্মদ কাইউমের পরিচালনায় নির্মাণ হয়েছে সিনেমা ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’। ভাটি অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে এ সিনেমার মধ্য দিয়ে। সিনেমাটির কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিজেই। এ নিয়ে মুহাম্মদ কাইউম বলেন, ‘এ সিনেমা নির্মাণের পেছনে আমার ব্যক্তিগত অভিরুচির জায়গা থেকে দেশ ও সমাজের ভিত্তিমূলে কৃষিজীবী মানুষ, তাদের যে সংগ্রাম, সেটা আমাকে প্রচণ্ডভাবে আকৃষ্ট করে। এর ব্যাপ্তি ও প্রাণশক্তি আমাকে প্রেরণা দেয়। এ ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করার এটাই মূল কারণ। এছাড়া আমি বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরতে গিয়েছি। হাওর এলাকায় গিয়ে আমার মনে হয়েছে এখানকার জীবনধারা আমাদের দেশের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা এবং মানুষের জীবনের যে সংকট সেটা এ অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর একইভাবে মানিয়ে নিয়ে চলছে। এ বিষয়ও আমাকে খুব টেনেছে এ সিনেমা নির্মাণ করার জন্য।’
কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া
সিনেমাটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। এ সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে
দেখা যাবে উজ্জ্বল কবির হিমু ও জয়িতা মহলানবিশকে।
সিনেমাটির ট্রেলার এরই মধ্যে
প্রকাশ পেয়েছে। হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনের টিকে থাকার লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে
ট্রেলারে এবং তা বেশ প্রশংসা পাচ্ছে। এতে দেখা গিয়েছে, একদল কৃষি শ্রমিক
ধান কাটার কাজে হাওরে যাত্রা করেছে। এই
কৃষি শ্রমিকদের মধ্যে একজন সুলতান। তার চরিত্রেই দেখা যাবে হিমুকে। ভিন্নধর্মী গল্পের
এ ছবি নিয়ে কথা বলেন উজ্জ্বল কবির হিমু। তিনি
বলেন, ‘এটা অন্য রকম একটা সিনেমা। ধ্রুপদী চিত্রালোকের ব্যানারের এ সিনেমা
হাওরের মানুষের জীবনযাত্রার গল্প নিয়েই এগিয়েছে। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের মানুষের
জীবন নিয়েই এ চলচ্চিত্র। এখানকার
মানুষ বছরের ছয় মাস পানির ওপর থাকে। তাদের
জীবনযাত্রা আমাদের মতো নয়। অনেক
সংগ্রাম করে তাদের টিকে থাকতে হয়। এ অঞ্চলে একবার যদি ধান না ওঠে, তাহলে তাদের না খেয়ে থাকতে হয়। তাদের জীবন অনেক কষ্টের। এখানে শুটিং করতে আমাদেরও যথেষ্ট কষ্ট
করতে হয়েছে। প্রতিদিন
প্রায় আড়াই ঘণ্টা শুটিং করা হতো। এমন
করেই সাড়ে তিন বছর লেগে গিয়েছে শুটিং করতে। হাওর
অঞ্চলের একটা পুরো সিজনের গল্প দেখা যাবে এ সিনেমায়।’
এ নিয়ে জয়িতা মহলানবিশ বলেন, ‘আমি
আনন্দিত এমন একটি সিনেমায় কাজ করে। কারণ এখানে বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলকে
তুলে ধরা হয়েছে। আমরা শহরে থেকে অনেকেই জানি না আমাদের
অর্থনীতিতে হাওরের মানুষগুলো কেমন ভূমিকা
রাখছে। আবার তাদের জীবনের প্রকৃতি কী ধরনের ভূমিকা রাখে সেটা
এ সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে দারুণভাবে। এটা একটা বাস্তববাদী সিনেমা।
আমরা চেষ্টা করেছি সিনেমার চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে হাওরের গল্পটা
তুলে ধরতে।’
সিনেমাটির ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের
ট্রেলারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনের লড়াই। তবে পুরো সিনেমার জন্য অপেক্ষা করতে
হবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। নভেম্বরের
শুরুর দিকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া।
এ সিনেমায় দুটি গান ব্যবহার
করা হয়েছে। আঞ্চলিক
মানুষের গল্প নিয়ে এ সিনেমা, তাই এখানে ব্যবহৃত গান দুটির দুটিই প্রচলিত। এর একটি গান
হেমাঙ্গ বিশ্বাসের, অন্যটি রাধারমণ দত্তের ধামাইল গান। এ সিনেমার সংগীত পরিচালনা
করেছেন ভারতীয় শিল্পী সাত্যকি ব্যানার্জি। স্থানীয় ধামাইল শিল্পীরাই গেয়েছেন এ
গান।










