বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিশে আছে জানা অজানা হাজারো গল্প, যার বড় একটি অংশজুড়েই আছে মানবিকতা। যুদ্ধ চলাকালীন শরর্ণার্থী শিবিরে থাকা শিশুদের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখা ফরাসি যুবক জ্যঁ ক্যুয়ের ঘটনা এখনো অনেকের অজানা। এ সত্য ঘটনা অবলম্বনে ফাখরুল আরেফীন খান নির্মাণ করেছেন দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সিনেমা ‘জেকে ১৯৭১’। চলতি বছরের শুরুতেই এটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। আগামী ৩ মার্চ দেশের প্রেক্ষাগৃহে আসছে জেকে ১৯৭১ সিনেমাটি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফাখরুল আরেফীন খান বলেন, ‘আমরা আগামী ৩ মার্চ সিনেমাটা মুক্তি দিতে চলেছি। প্রথম অবস্থায় সিনেপ্লেক্সে জেকে ১৯৭১ মুক্তির পরিকল্পনা করেছি। দর্শকের সাড়া পেলে পরবর্তী সপ্তাহে সিঙ্গেল স্ক্রিনে দেখানোর কথা বিবেচনা করব।’
অন্যদিকে বাংলাদেশে বলিউডের সিনেমা পাঠান মুক্তি নিয়ে দেশের অনেক সিনেমা নির্মাতারা শঙ্কায় রয়েছেন। এ নিয়ে ভুবন মাঝিখ্যাত নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন খান বলেন, ‘পাঠান বাংলাদেশে এলেও আমরা জেকে ১৯৭১-এর মুক্তি পেছাব না। যে সিনেমাই বাংলাদেশে আসুক না কেন আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকব।’
সিনেমাটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের শুভ্র সৌরভ দাশ। পাইলটের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ইন্দ্রজিৎ। জেকে ১৯৭১ সিনেমাটির অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেতা ফ্রান্সিসকো রেমন্ড, রুশ অভিনেত্রী ডেরিয়া গভ্রুসেনকো, নিকোলাই প্রমুখ।
মুক্তি উপলক্ষে সিনেমায় অভিনীত দেশের বাইরের কলাকুশলীরা বাংলাদেশে আসবে কিনা জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, ‘এখনই এ নিয়ে নিশ্চিত বলতে পারছি না। সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হচ্ছে, উনি আসতে পারেন। অন্যদিকে ইন্দ্রজিতের আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে শরণার্থী শিবিরে ছিলেন অসংখ্য মানুষ। এর মধ্যে লাখো অসহায় শিশু সে সময় স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের সহায়তা করতে চেয়েছিলেন ফরাসি যুবক জ্যঁ ক্যুয়ে। এজন্য ফ্রান্সের অর্লি বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) একটি বিমান ছিনতাই করেছিলেন তিনি। এ ঘটনাকে ঘিরেই সিনেমাটির গল্প।
২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বিশেষ অডিয়েন্স পুরস্কার জিতেছে ফাখরুল আরেফীন খান পরিচালিত জেকে ১৯৭১। আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। জেকে ১৯৭১ এরই মধ্যে মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জিতে নিয়েছে সেরা ঐতিহাসিক সিনেমার পুরস্কার।










