দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরেছেন শারলিন ফারজানা। নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। পরিবার, মাতৃত্ব ও অভিনয়জীবনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে
একসময় আপনাকে নিয়ে দর্শকের মধ্যে বেশ আগ্রহ ছিল। সেই জায়গায় অভিমান থেকেই কি অভিনয় থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন?
কাজের জায়গা থেকে বেশিদিন দূরে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বিরতি নিতে হয়েছিল, পারিবারিক কারণ ছিল। আমার মনে হয়েছিল, সেখানে আমাকে একটু সময় দিতে হবে। সে কারণেই কাজ থেকে বেশ লম্বা একটা বিরতি নিয়েছিলাম।
আপনার কাছে পরিবার কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
আমি এমন একটা জায়গায় বেড়ে উঠেছি, যেখানে অর্থবিত্তের দিক থেকে আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার এবং মানসিকতার দিক থেকে স্বশিক্ষায় খুব বিশ্বাসী ছিলাম। পারিবারিক শিক্ষাকে আমি মনে করি মেরুদণ্ড। আমি আমার মাকে দেখে বেড়ে উঠেছি, যেখানে পরিবারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ার অবশ্যই দরকার, তবে পরিবারকে বাদ দিয়ে নয়।
আপনি নিজেও এখন মা। মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমি মাতৃত্বের প্রতিটি পর্যায় খুব অনুভব করছি। আরো দীর্ঘ একটা যাত্রা আমার সামনে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এ যাত্রার সঙ্গে আর কোনো কিছুর তুলনা হয় না। এটা আনন্দের!
কাজের ক্ষেত্রে মানকে বেশি গুরুত্ব দেন, নাকি কাজের সংখ্যাকে?
কারো কাছে মান ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়া, আবার কারো কাছে বেশি কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা—দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। ৫০০ কাজ করে এতটাই অভিজ্ঞ হয়ে যাওয়া যে যেকোনো চরিত্রে খুব দ্রুত মিশে যাওয়া—সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। দুটোই ঠিক আছে। কিন্তু আমার কাছে মানটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে নারী অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুযোগ কমে যায়। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
আমাদের এখানে একটা অসম প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে দেয়া হয়—সবসময় রিলসে, দৃশ্যে থাকতে হবে। আমার মনে হয়, এটা ঠিক না। আমাকে যদি এখন ৬৪ বছর বয়সী একজন নারীর চরিত্র দেয়া হয় এবং সেটা আমার পছন্দ, আমি করব।
এ ধরনের গল্প তৈরি না হওয়ার কারণ, আমরা সবাই সামনে থাকতে চাই এবং চাকচিক্যময় কাজ করতে চাই। কিন্তু আমার এসবের কাছে তেমন কোনো মূল্য নেই। আমার মনে হয়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে টেকে না এবং খুব গুরুত্বপূর্ণও নয়।
নারী অভিনয়শিল্পীদের সবসময় সুন্দর ও নায়িকা হয়ে থাকার একটা চাপ থাকে। আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন চাপ কাজ করেছে?
আমার একটা জন্মদাগ নিয়েই পৃথিবীতে আসা। কিন্তু পরিবার কখনো এটা নিয়ে আমাকে সচেতন করে দেয়নি। মা-বাবা কখনো বলেননি, আমি মেয়ে, আমার মুখে দাগ আছে, এটা ঠিক করতে হবে।
আমার কাছে বাহ্যিক রূপটাই সৌন্দর্য নয়। একটু পরিচর্যা, নিজেকে ফিট রাখা—এইটুকু দরকার। বাহ্যিক সৌন্দর্য ভেতরের সৌন্দর্যেরও প্রতিফলন। তবে সেটার ওপর ভিত্তি করে জীবন চলবে, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না।
আপনার কাজে ফিরে আসার ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
শতভাগ। জীবনসঙ্গী জীবন বদলে দিতে পারে। আর জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যদি জীবনদর্শন ও জীবনযাপনে মিল না থাকে, তাহলে খুব মুশকিল। যদি সে কাজে উৎসাহ না দিত, ফিরে আসতে সহায়তা না করত, তাহলে মনে হয় না আমার পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব হতো।
আমাদের নাটকের গল্পে কি বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
আমি অনুকরণ করা কনটেন্টকে কখনই সমর্থন করি না। কারণ আমাদের সংস্কৃতি এত সমৃদ্ধ। আমাদের কথা বলা থেকে শুরু করে শিল্পসত্তা—সব জায়গাতেই নিজস্বতা আছে। তাই অন্যের কাছ থেকে ধার করার প্রয়োজন নেই।
এখন ‘আজ রবিবার’ বা ‘দিনরাত্রি’র মতো সুন্দর গল্প খুব কম হচ্ছে। আমি এমন সংলাপনির্ভর কাজ খুঁজি। আমাদের দেশে পরিস্থিতিনির্ভর কাজ বেশি হয়—প্রেমের গল্প, একটু বিরহ, তারপর মিলন বা বিচ্ছেদ। কিন্তু সংলাপনির্ভর কাজ খুব একটা হয় না।
সিনেমার বাজেট ও হলের সংকট—কোনটাকে বড় সমস্যা মনে করেন?
আমার মনে হয়, আমরা অনেক চেষ্টা করছি। আগে বাজেট যত ছিল, এখন ১০ গুণ বেড়েছে। শাকিব খান, নিশো ভাইকে নিয়েও বড় বাজেটের সিনেমা হচ্ছে। এখন বাজেট সমস্যা নয়।
দর্শকদের মধ্যে একটু সচেতনতা দরকার। দর্শক যদি আমাদের শিল্পী ও তাদের কাজগুলোকে সমর্থন করে, তাহলে চাহিদা বাড়বে। এতে হলের সংখ্যাও বাড়বে, বিনিয়োগকারী ও কাজ দুটোই বাড়বে।
ওটিটি ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের সময়ে সিনেমা হল বা টেলিভিশন কি একসময় হারিয়ে যাবে?
আমার মনে হয় না। তাহলে ‘স্পাইডার-ম্যান’ এলে এ রকম ঝাঁপিয়ে পড়ে একগাদা মানুষ তা দেখত না। আমার মনে হয়, যে ধরনের সিনেমা আমরা হলে গিয়ে দেখতে চাই, ওই ধরনের সিনেমা একটু বেশি হওয়া উচিত। একটু হরর, একটু থ্রিলার, একটু সাসপেন্স—এগুলো মিশিয়ে একটা গল্প। এগুলো দর্শক দেখছে, সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা প্রচুর দেখছে।










