মঞ্চ জীবনের চলমান ক্যানভাসের মতো। নিত্যদিনের হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনা, ঘাত-প্রতিঘাত, ক্ষোভ-প্রতিবাদের প্রতিফলন ঘটে মঞ্চে। জীবন ও পারিপার্শ্বিক নানা ঘটনা অভিনয়শৈলীর মধ্য দিয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়াই যেন মঞ্চ নাটকের উদ্দেশ্য। আর মঞ্চ নামের খোলা ক্যানভাসে নানা কারিশমা দেখান মঞ্চসৈনিকরা। কিন্তু করোনা নামের ঘাতক ভাইরাসটি মঞ্চকর্মী আর মঞ্চের মাঝে দূরত্ব তৈরি করেছিল। ভাইরাসটির কারণে দেশে প্রায় সাত মাস বন্ধ ছিল থিয়েটার কার্যক্রম। ঘরবন্দি থাকতে থাকতে হাঁসফাঁস অবস্থায় ছিলেন নাট্যকর্মীরা। নাট্যকর্মীদের দাবির জোরে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি খুলে দেয়া হয়। এতে যেন প্রাণ ফিরে পান মঞ্চসৈনিকরা। নতুন স্বাভাবিকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করছে থিয়েটার দলগুলো। শিল্পকলা একাডেমি খোলার পর সপ্তাহের শুক্র ও শনি এ দুদিন নিয়মিত মঞ্চ নাটক প্রদর্শিত হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় স্বপ্নদল ও শব্দ নাট্যচর্চা—নাট্যদল দুটি মঞ্চে নিয়ে আসতে চলেছে তাদের দর্শকনন্দিত ‘চিত্রাঙ্গদা’ ও ‘তৃতীয় একজন’—নাটক দুটি।



৬ নভেম্বর চিত্রাঙ্গদার ৮০তম মঞ্চায়ন

এদিন সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটি প্রদর্শিত হবে।

রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্যরূপে এবং ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে। এর নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপিত হয় মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে—অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত এ সৃষ্টি ‘চিত্রাঙ্গদা’-র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি ২০১১-এ সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত হয় এবং নিয়মিত মঞ্চায়ন শুরু হয়।

‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন—সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, অর্ক, হ্যাপী, সুমাইয়া, সামাদ, আঁচল, ঊষা, সম্রাট, আলী, বিপুল, মামুন, অনিন্দ্য, মাসুদ প্রমুখ।

৭ নভেম্বর ‘তৃতীয় একজন’

চিত্রাঙ্গদা প্রদর্শনীর পর ৭ নভেম্বর জাতীয় নাট্যশালায় প্রদর্শিত হবে ‘তৃতীয় একজন’। দুজন নিঃসঙ্গ একাকী মানুষের জীবনে তৃতীয় একজন মানুষের আবির্ভাবের ফলে সৃষ্ট এক তীব্র জটিল নাটকীয়তার নাটক ‘তৃতীয় একজন’। নাটকটি রচনা করেছেন সমীর দাশ গুপ্ত, নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হিরা। এতে অভিনয় করেছেন অনন্ত হিরা ও রওশন জান্নাত রুশনী। আলোক পরিকল্পনায় ঠান্ডু রায়হান, মঞ্চ পরিকল্পনায় আলি আহম্মেদ মুকুল, আবহসংগীতে রামিজ রাজু, পোশাক পরিকল্পনায় নূনা আফরোজ ও কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন সুমি।  নাটকটির প্রযোজনা সমন্বয়কারী নাট্যজন খোরশেদুল আলম।