ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’র টিকিট কাটতে দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তবে ছবিটি দেখার আগ্রহ এতটাই বেশি যে টিকিট বুকিংয়ের পথে অপ্রত্যাশিত কিছু বাধাও দেখা দিয়েছে।

ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যাডভেঞ্চারধর্মী এ মহাকাব্যিক চলচ্চিত্রের আইম্যাক্স এবং অন্যান্য প্রিমিয়াম লার্জ-ফরম্যাট (পিএলএফ) প্রদর্শনীর চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে এএমসির টিকিটিং অ্যাপ কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে যায়। পরে বিক্রি পুনরায় শুরু হলেও অপেক্ষার সময় বেড়ে প্রায় এক ঘণ্টায় পৌঁছায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, লার্জ ফরম্যাটের শোর আসন সংরক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান আইম্যাক্স প্রযুক্তির একজন জোরালো সমর্থক। তিনি আইম্যাক্সের নিজস্ব বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে ‘দ্য ওডিসি’ ধারণ করেছেন। ফলে দর্শকরা এই ফরম্যাটেই চলচ্চিত্রটি দেখতে আগ্রহী। গতকাল আইম্যাক্স ও অন্যান্য প্রিমিয়াম লার্জ-ফরম্যাটের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পরপরই এই হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

শুধু এএমসি নয় ফ্যানড্যাঙ্গোর ওয়েবসাইটও চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে। ব্যবহারকারীরা সেখানে দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

বছর খানেক আগে ‘দ্য ওডিসি’র উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আইম্যাক্স ৭০ মিমি প্রদর্শনীর টিকিট ছাড়া হয়েছিল এবং সেগুলো দ্রুতই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কোনো চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এত আগে থেকে আসন বিক্রি শুরু হওয়া প্রায় নজিরবিহীন। তবে নোলানের প্রচারণার কারণে তার আগের চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’আইম্যাক্স ৭০ মিমি ফরম্যাটে দেখার জন্য অনেক ভক্তকে নিজ অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে ভ্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল।

২৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত ‘দ্য ওডিসি’ ১৭ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, জেনডায়া, অ্যান হ্যাথাওয়ে ও রবার্ট প্যাটিনসন। চলচ্চিত্রটি পরিবেশন করছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স।

এবারে গরমের মৌসুমে ‘দ্য ওডিসি’ অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমার স্থান দখল করে নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে হলিউডে।

প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি। যেখানে বীর ওডিসিউসের বাড়ি ফেরার দীর্ঘ যাত্রার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। আর উদ্বোধনী রাতের আইম্যাক্স ৭০ মিমি প্রদর্শনীর টিকিট সংগ্রহ করাও যেন সেই অভিযাত্রার মতোই কঠিন হয়ে উঠেছে।

দর্শকরা নোলানের ওপর আস্থা রাখার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পান। এমন এক সময়ে যখন প্রেক্ষাগৃহগুলো সুপারহিরো সিক্যুয়েল ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি-নির্ভর চলচ্চিত্রে ভরে যাচ্ছে, তখন নোলানের সিনেমার তাদের একদম আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।

সম্প্রতি টেলিভিশন অনুষ্ঠান সিক্সটি মিনিটসে নোলান বলেন, ‘আমি যখন লিখি, তখন একজন দর্শকের মতো করে চলচ্চিত্রটিকে কল্পনা করি—যেন আমি নিজেই গল্পটি অনুভব করছি। এরপর যখন পরিচালনা করি, তখন দর্শকদের সেই অভিজ্ঞতার ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। “দ্য ওডিসি”র ক্ষেত্রে আমি দর্শকদের (ট্রয়ের) সেই ঘোড়ার ভেতরে নিয়ে যেতে চাই। আমি চাই তারা ওডিসিউসের জাহাজের ডেকে দাঁড়ানোর অনুভূতি পাক।’

অবশ্য টিকিটের চাহিদার ভারে এএমসি-র ওয়েবসাইট অচল হয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে টেইলর সুইফটের কনসার্ট চলচ্চিত্র ‘টেইলর সুইফট: দ্য ইরাস ট্যুর’ মুক্তির সময়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালে গায়িকার চলচ্চিত্র ‘শোগার্ল’-এর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়।

এএমসি বিশ্বের বৃহত্তম সিনেমা প্রদর্শনী চেইন এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদেরই সবচেয়ে বেশি আইম্যাক্স পর্দা রয়েছে।

এএমসি-র একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে ইউনিভার্সাল এবং ফ্যানড্যাঙ্গোর মুখপাত্রদের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।