চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গান গাইছেন শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। দীর্ঘ সংগীত জীবনে মামুনিয়া, আগে যদি জানতাম, এমন একটা মা দেনা-র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি গান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গান ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গ ও তার কাজকর্ম নিয়ে টকিজের সঙ্গে কথা বলেন গুণী এ সংগীতশিল্পী
আপনি সংগীত জগতের মানুষ। কিন্তু সংগীত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ কী?
জনগণ আমাকে ছুড়ে ফেলার আগেই আমি গান ছেড়ে দিচ্ছি। সত্যি বলতে কি, একটা বয়সের পর সংগীতশিল্পীরা আর গাইতে পারেন না। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকান দেখতে পাবেন, একটা সময় এসে শিল্পীদের খুব দুরবস্থা তৈরি হয়। এ রকম অনেক শিল্পী আছেন, যাদের নাম আমি বলতে পারব। যে কারণে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সম্মান থাকতে থাকতেই ছেড়ে দেয়া ভালো।
আপনি বললেন, একটা সময়ের পর দেশে শিল্পীদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, অনেকটা খারাপ অবস্থা তৈরি হয়। এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার উপায় কী?
এটা মানসিকতার বিষয়। মানুষের চিন্তার বিষয়। খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের দেশে শিল্পীদের বয়স বেড়ে গেলে সে শিল্পীর কদর কমে যায়। বাইরের দেশে কিন্তু এটা হয় না। এ দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তরুণ শিল্পীদের ডাকা হয়। প্রবীণ শিল্পীদের ডাকা হলেও দেখা যায়, তারা অনেক দূরের সিটে বসে আছেন। এটা বাস্তব চিত্র। যে শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে গেলেন, তাদের যথেষ্ট সম্মান দেয়া হয় না। একজন বাউল শিল্পীর কথা যদি বলি, তিনিও কিন্তু একজন শিল্পী। কিন্তু জীবনের একটা সময় গিয়ে দেখা যায় সে শিল্পী তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাচ্ছেন না। আজকে আমি গান ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছি বলে আপনারা আমার খোঁজখবর করছেন। আমাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে। জনগণের উচিত শিল্পীদের কথা ভাবা। তাদের গানগুলো মনে রাখা। এটা না থাকলে প্রবীণ শিল্পীদের অবস্থার উন্নতি হবে না। তবে এটা একদিনে ঠিক হওয়ার বিষয় নয়। দীর্ঘদিনের চর্চার বিষয় এটি। তবে আমি আশাবাদী বাংলাদেশ










