সম্প্রতি ওটিটি প্লাটফর্ম বিঞ্জে মুক্তি পেয়েছে ভিকি জাহেদের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দ্য সাইলেন্স’। মেহজাবিন, শ্যামল মাওলা, আজিজুল হাকিম, বিজরী বরকতউল্লাহ ও আব্দুন নূর সজল অভিনীত ওয়েব সিরিজটি মুক্তির পর থেকে আলোচনায় রয়েছে। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কনটেন্ট নির্মাণ করে বছরজুড়েই আলোচনায় থাকেন ভিকি জাহেদ। দ্য সাইলেন্স ওয়েব সিরিজটি নিয়ে জানতে চাইলে ভিকি জাহেদ বলেন, ‘আমি সবসময় আলাদা ধাঁচের কাজ করার চেষ্টা করি। ওই ভাবনা নিয়েই সাইলেন্স করা। আন্তন চেখভের লেখা ছোট গল্প আমি অনেক আগে পড়েছিলাম। আমরা সাইলেন্সে দেখেছি, এক বছর কথা না বলে থাকার একটা শর্ত দেয়া হয়। ওই ছোটগল্পে শর্ত ছিল আটক অবস্থায় একজন মানুষ কতদিন একা থাকতে পারে। মূলত ওই আইডিয়ার ওপর ভিত্তি করে অনেক কিছু পরিবর্তন করে কাজ করেছি। যেখানে সাতটি পাপ, রিলিজিয়ন, সেটানিজমসহ অনেক বিষয় এসেছে চিত্রনাট্য করার সময়। কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয় থেকে সাইলেন্স আসেনি।’ 

তিনি এ নিয়ে আরো বলেন, ‘‌আমি শুরু থেকেই ভিন্ন ধারার গল্প বলতে চাচ্ছিলাম। যে গল্পে থ্রিলার, হরর, সাইকোলজি, ড্রামা, আবেগ সব থাকবে। গল্প শেষে দর্শকের চিন্তার জায়গাও থাকবে এমনটাই চাচ্ছিলাম। শেষটাও এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে একেকজন একেকভাবে ভাবতে পারেন।’

সাইলেন্সের মূল আকর্ষণ এর গল্প। নির্মাতা খুব সাবলীলভাবেই এতে অনেকগুলো বিষয় তুলে ধরেছেন। সেটানিজমের মতো বিষয় ওয়েব সিরিজে দেখানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভিকি জাহেদ বলেন, ‘আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি, তখন একুশে টিভিতে প্রেত নামের একটা সিরিজ হতো। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ওই সিরিজে হুমায়ুন ফরিদী স্যার ও আহমেদ রুবেলের মতো লিজেন্ড তারকারা অভিনয় করেছিলেন। আমার উপন্যাস পড়া না হলেও ওই সিরিজ আমাকে খুব প্রভাবিত করেছিল। সেটানিজম ছিল সিরিজটিতে। আসলে সেটানিজম কিন্তু সাইলেন্সের মূল বিষয় না। এটা গল্পের একটা উপকরণ মাত্র আর এর বার্তা অনেক বেশি রিলিজিয়াস।’

বিষয়টি নিয়ে ভিকি জাহেদ আরো বলেন, ‘‌গল্পে আমরা দেখেছি ১০ কোটি টাকার জন্য অয়ন আর রুবি যে সাতটা মহাপাপ করে, আমরা কিন্তু নিয়মিত এগুলো করছি। কিন্তু বুঝতে পারি না। পাপগুলো এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মানুষকে বিষয়টা বোঝানো ছিল এ গল্পের মূল উদ্দেশ্য। যেমন আমরা অনেকেই অনেক সময় আমাদের প্রয়োজনের বেশি খাই। অথচ আমাদের সমাজে অনেক মানুষ না খেয়ে আছে, যাদের কথা আমরা ভাবিও না। আবার প্রতিনিয়ত মহাপাপ করে যাচ্ছি, যেটা আমাদের ভাবনায়ও আসছে না। আমার ইচ্ছা ছিল, সাইলেন্সের মাধ্যমে ওই বিষয়গুলো একটু নাড়া দেয়া। দেখা যায় অয়ন ও রুবির সাতটা পাপই আমরা প্রতিদিন করছি। তাহলে আমরা বছরের ৩৬৫ দিন কীসের ভেতর আছি। এ রিলিজিয়াস বার্তা দেয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল এখানে।’

সাইলেন্স ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে এর অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রশংসা পাচ্ছেন। এ নিয়ে মেহজাবিন চৌধুরী বলেন, ‘দ্য সাইলেন্স ওটিটি প্লাটফর্মে প্রকাশের পর থেকেই অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। সত্যি এতটা সাড়া পাব, ভাবিনি। সর্বমহল থেকেই এতে অভিনয়ের জন্য ভীষণ সাড়া পাচ্ছি। শুধু আমিই নই, এতে আরো যারা অভিনয় করেছেন, যেমন শ্রদ্ধেয় আজিজুল হাকিম ভাই, বিজরী আপা, সজল ভাইসহ প্রত্যেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছেন। আমি আমার অভিনয়জীবনে দর্শকের কাছ থেকেই অনেক ভালোবাসা পেয়েছি, ভালো গল্পের নাটকের জন্য অনেক সাড়া পেয়েছি, প্রতি মুহূর্তে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।’

দ্য সাইলেন্স ওয়েব সিরিজে অতিভোজন, হিংসা, ক্রোধ, অহংকার, লোভ, লালসা, অলসতার মতো বিষয়গুলো ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন ভিকি জাহেদ। এর আগে থ্রিলার ও হরর ধাঁচের একাধিক কনটেন্ট নির্মাণ করেছেন এ নির্মাতা। তবে সব ছাপিয়ে গিয়েছে দ্য সাইলেন্স। পুনর্জন্ম, রেডরাম, চম্পা হাউস, শুক্লপক্ষের মতো কনটেন্ট নির্মাণ করেছেন তিনি। ভিকি জাহেদের অনেক কনটেন্টেরই সিকুয়াল রয়েছে। দেখার পালা দ্য সাইলেন্সের পরবর্তী অংশ নিয়ে আসেন কিনা এ নির্মাতা।