হলিউডের সিনেমার বাজার অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সামার বক্স অফিস এর প্রমাণ। ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর পর এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসই সবচেয়ে বেশি ব্যবসা পেয়েছে। বক্স অফিস ট্র্যাকার রেন্ট্রাকের তথ্য অনুযায়ী, ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ লেবার ডে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ডলারের। এর মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ওই বছর ‘আয়রন ম্যান থ্রি’, ‘ডেসপিকেবল মি টু’ ও ‘ম্যান অব স্টিল’-এর সাফল্যে গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে আয় হয়েছিল ৪৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
তবে এবারের রেকর্ডের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এক. এক দশকেরও বেশি আগের টিকিট বিক্রির হিসাব মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। দুই. ২০১৩ সালের তুলনায় এবারের ‘পপকর্ন সিজন’ (ছুটি, সিনেমা মুক্তি মিলিয়ে বিনোদনের জন্য উপযোগী বিশেষ সময়) কিছুটা দীর্ঘ ছিল। সময়টা এবার ছিল ১৩০ দিন, ২০১৩ সালে ছিল ১২৩ দিন। কারণ লেবার ডে এবার কিছুটা ভিন্ন সময়ে পড়েছে।
তার পরও এ অর্জন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সিনেমা ব্যবসা নিয়ে পাঁচ বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার পর দর্শক যে আবার বড় পর্দার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে, এ রেকর্ড তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রেন্ট্রাকের মার্কেটপ্লেস ট্রেন্ডস বিভাগের প্রধান পল ডেরগারাবেডিয়ান বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের রেকর্ড সিনেমা হলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে আয়োজন এ সংখ্যাগুলো সার্বিক অবস্থার একটি অংশ কেবল। এবারের গ্রীষ্মকে অনন্য ও যুগান্তকারী করে তুলেছে অন্য একটি বিষয়—অনেক মানুষের কাছে হয়তো এটাই সে মৌসুম, যা তাদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছে সিনেমা হলে যাওয়ার আনন্দ কতটা। এটি ভবিষ্যতে দর্শককে আবার সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে পারে, নতুন প্রজন্মের দর্শক তৈরি করতে পারে এবং সামনে আরো অনেক ভালো সিনেমা আসায় এ গতি ধরে রাখতে পারে।’
এবারের সামার বক্স অফিস আরেকটি কারণে ইতিহাসে আলাদা হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো টানা চার মাসের প্রতিটিতেই বক্স অফিসের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। রেন্ট্রাকের হিসাবে মে মাসে আয় হয়েছে ১০৭ কোটি ডলার, জুনে ১০৮ কোটি, জুলাইয়ে ১১৮ কোটি ও আগস্টে ১২৭ কোটি ডলার।
মে মাসের শুরু থেকে লেবার ডে পর্যন্ত চলা ‘পপকর্ন সিজন’ চলচ্চিত্র ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বছরের মোট বক্স অফিস আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এ সময় থেকে। মহামারীর পর এবার মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো গ্রীষ্মকালীন টিকিট বিক্রি ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। প্রথমবার এমনটা হয়েছিল ২০২৩ সালে। তখন ‘বারবেনহাইমার’-এর উন্মাদনায় গ্রীষ্মকালীন আয় পৌঁছেছিল ৪০৯ কোটি ডলারে।
বক্স অফিসের শেষ ‘স্বাভাবিক’ বছর ২০১৯ সালে গ্রীষ্মকালীন আয় হয়েছিল ৪৩০ কোটি ডলার। অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ড গেমসহ একাধিক ব্লকবাস্টার শতকোটি ডলার আয় করেছিল। ২০১৮ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘ইনক্রেডিবলস টু’র মতো সিনেমার সাফল্যে পপকর্ন সিজনে আয় হয়েছিল ৪৪২ কোটি ডলার।
এবার স্টুডিওগুলো একদিকে ‘টয় স্টোরি ফাইভ’ ও ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু’র মতো পরীক্ষিত ফ্র্যাঞ্চাইজির সিকুয়াল দিয়ে সাফল্য পেয়েছে, অন্যদিকে ‘জেন জি’র গল্পনির্ভর ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো অপ্রত্যাশিত সাফল্যও এসেছে। এ মাইলফলকের পেছনে বড় কৃতিত্ব অবশ্যই ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র। এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় ৯২ কোটি ৩০ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী ২৪০ কোটি ডলার। এমনকি নোলানের ওডিসিও প্রত্যাশা ছাপিয়ে উত্তর আমেরিকায় ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ও বিশ্বব্যাপী ১৬২ কোটি ডলার আয় করেছে।
আশা পূরণ করতে পারেনি ডিজনির লাইভ অ্যাকশন ‘মোয়ানা’, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘সুপারগার্ল’ ও অ্যামাজন-এমজিএমের ‘মাস্টার্স অব দি ইউনিভার্স’। কিন্তু সব মিলিয়ে হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে এ বছর মুনাফার পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসও দিয়েছে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে আসরার আবেদিন










