কেটে গেছে তাল। বিদায় নিয়েছেন কিংবদন্তি তবলা শিল্পী ওস্তাদ জাকির হোসেন। সান ফ্রান্সিসকোর একটি হাসপাতালে ৭৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।

পরিবারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস থেকে উদ্ভূত জটিলতায় মারা গিয়েছেন। তিনি গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ছিলেন এবং অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

জাকির হোসেনের বোন খুরশিদ আউলিয়া পিটিআইকে জানান, এই তবলা মায়েস্ত্রো ‘অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে’ পরলোক গমন করেছেন। ভেন্টিলেশন মেশিন বন্ধ করার পর তিনি খুব শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান। সান ফ্রান্সিসকোতে তখন সময় বিকাল ৪টা।

নিজ প্রজন্মের সর্বশ্রেষ্ঠ তবলা বাদক হিসেবে বিবেচিত জাকির হোসেন তার স্ত্রী অ্যান্টোনিয়া মিনেকোলা এবং দুই কন্যা আনিসা কুরেশি ও ইসাবেলা কুরেশিকে রেখে গেছেন।

১৯৫১ সালের ৯ মার্চ জন্মগ্রহণকারী জাকির হোসেন ছিলেন কিংবদন্তি তবলা বাদক উস্তাদ আল্লা রাখার পুত্র। ছয় দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে হুসেন বহু আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে ১৯৭৩ সালে ইংরেজ গিটারিস্ট জন ম্যাকলফলিন, বেহালাবাদক এল শংকর এবং পারকাশনিস্ট টি এইচ 'ভিক্কু' বিনায়াকরামের সঙ্গে তার প্রকল্পটি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং জ্যাজের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল।

মাত্র সাত বছর বয়সে তবলায় হাতেখড়ি হওয়ার পর, তিনি রবি শংকর, আলি আকবর খান এবং শিবকুমার শর্মার মতো ভারতের কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। পশ্চিমা সঙ্গীতশিল্পী যেমন ইয়ো-ইয়ো মা, চার্লস লয়েড, বেলা ফ্লেক, এডগার মেয়ার, মিকি হার্ট এবং জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে তার যুগান্তকারী কাজ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাকে দিয়েছিল বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক দূতের মর্যাদা।

জাকির হোসেন তার কর্মজীবনে চারটি গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছেন। যার মধ্যে তিনটি তিনি পান এই বছরের ৬৬তম গ্র্যামি অনুষ্ঠানে।

ভারতের অন্যতম সম্মানিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তিনি ১৯৮৮ সালে পদ্মশ্রী, ২০০২ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০২৩ সালে পদ্মবিভূষণ লাভ করেছিলেন।

জাকির হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অনেক শোকবার্তা।