প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন চিত্রায়ণের প্রয়াসেই নির্মিত হয়েছে ‘সাঁতাও’। খন্দকার সুমন পরিচালিত গণঅর্থায়নে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্র মুক্তির আগে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরে বাংলাদেশ প্যানোরমা বিভাগে প্রিমিয়ার হয়েছে সিনেমাটির। শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়েছিল ‘সাঁতাও’ প্রদর্শনী। তার ঘণ্টাখানেক আগেই জাদুঘরের সামনে দর্শকের ভিড়, দীর্ঘ সারি ছিল লক্ষণীয়। প্রদর্শনীর সব আসনই পরিপূর্ণ ছিল। আসন না পেয়ে অনেক দর্শক মেঝেতে বসে, কেউ বা দাঁড়িয়ে সিনেমাটি দেখেছেন। মিলনায়তনের বাইরেও ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়।

২৭ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘সাঁতাও’। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সিনেমা হল না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় সিনেমাটি। সাঁতাওয়ের প্রদর্শনীর শেষে নির্মাতা খন্দকার সুমন বলেন, ‘আমাদের সিনেমাটি অনেক সিনেমা হল মালিক নিতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের ধারণা, এ ধরনের সিনেমা দর্শকরা দেখে না। কিন্তু তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা আজ সাক্ষী যে আমাদের সিনেমারও মানুষ রয়েছে। আপনারা যদি দেশের মাল্টিপ্লেস ও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার দাবি জানান, তাহলে হয়তো এটি নিয়ে আমাকে হারতে হবে না। দেশের অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা স্বপ্ন বুননের মাঝে আছে। সাঁতাও যদি জয়ী হয়, তাহলে তরুণ নির্মাতারাও সিনেমা নির্মাণে আরো সাহস পাবেন।’ সিনেমার স্পন্সরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‌দেশের অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠানও আমাদের সিনেমাকে স্পন্সর করতে রাজি হয়নি। কারণ তারা মনে করেন, কৃষক হচ্ছে ব্র্যান্ডিংয়ের জায়গা থেকে সর্বনিম্ন। অথচ এদেশে কৃষক হচ্ছে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড।’

‘সাঁতাও’ ২৭ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক। 

কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সার্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় আবর্তিত হয়েছে সাঁতাওয়ের কাহিনী। গ্রামের কৃষক ফজলু বিয়ের পর তার স্ত্রী পুতুলের একাকিত্ব দূর করতে একটি গাভী কিনে আনেন। এরপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় এ সিনেমার গল্প। তিস্তার পারের কৃষকের জীবন আর জীবনের ছোট উপলক্ষ থেকে শুরু করে তাদের আনন্দ-বেদনা নিয়ে সিনেমাটি এগিয়েছে সাবলীলভাবে। 

গত নভেম্বরের শেষে এশিয়ার অন্যতম চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া (আইএফএফআই) অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতের গোয়ায়। ওই উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল সাঁতাও। ভারতের মহারাষ্ট্রে অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অষ্টম আসরেও দেখানো হয়েছে এ সিনেমা।