কিছু সিনেমা মুক্তির আগে শোরগোল তোলে খুব। মুক্তির পর দেখা যায় ব্যবসা করতে পারে না। কেউ পছন্দও করে না। ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ সে রকমই হলো। বলা হচ্ছিল বড় পর্দায় যশের জমকালো প্রত্যাবর্তনের হবে এটি দিয়ে। কেজিএফের পর আবারো ঝড় উঠবে। কিন্তু তা হলো না। বিপুল বাজেট, তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী এবং বিশাল পরিসরে নির্মাণ—সব মিলিয়ে অনেক কিছুই ছিল টক্সিকের। মুক্তির আগে নানা বিতর্ক ও আলোচনা সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ে শুরু করেছিল টক্সিক, তবে সেই সাফল্য স্থায়ী হয় মাত্র এক দিন। এরপর থেকেই শুরু হয় লাগাতার পতন। এখন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শন প্রায় শেষের দিকে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কি বক্স অফিসে বিনিয়োগের অর্থ তুলতে পেরেছে টক্সিক?

‘টক্সিক’-এর বক্স অফিস পারফরম্যান্স

মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতে ১০১ কোটি রুপি নেট আয় নিয়ে বড়সড় সূচনা করেছিল টক্সিক। বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনে সিনেমাটির আয় দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি রুপি গ্রস (কর প্রদান ব্যতীত আয়)। কন্নড় সিনেমার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ওপেনিং। পাশাপাশি ২০২৬ সালে কোনো ভারতীয় সিনেমার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিংও এটি। এ তালিকায় ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ-এর পরেই ছিল টক্সিক।

তবে নেতিবাচক রিভিউ ও প্রথম দিকের দর্শক প্রতিক্রিয়ার কারণে যশ অভিনীত সিনেমাটি দ্রুতই খারাপ প্রচারণার মুখে পড়ে। দ্বিতীয় দিনেই আয় নেমে আসে মাত্র ৩৭ কোটি রুপিতে। মুক্তির ষষ্ঠ দিন, অর্থাৎ প্রথম সোমবারে, দৈনিক আয় নেমে যায় এক অঙ্কে—১০ কোটি রুপিরও নিচে।

পরের সপ্তাহান্তে ধর্মীয় সিনেমা হনুমান অংশ-এর ব্যবসা বাড়তে শুরু করলে প্রেক্ষাগৃহে টক্সিক-এর শো কমতে থাকে। এর সঙ্গে মির্জাপুর: দ্য মুভি মুক্তি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে। মুক্তির ১৫তম দিনে, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর, সারা ভারত থেকে টক্সিক আয় করে মাত্র ৬০ লাখ রুপি। ওই দিন বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয়ও ১ কোটি রুপির নিচে নেমে যায়।

images

সিনেমার দৃশ্যে নয়নতারা ও যশ। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

‘টক্সিক’ কি হিট, নাকি ফ্লপ?

১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে টক্সিক-এর নেট আয় ২৪৭ কোটি রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে ৪৫ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ কোটি রুপি। বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির নেট আয় প্রায় ২৭০ কোটি রুপি।

ছোট বা মাঝারি বাজেটের কোনো সিনেমার জন্য এসব সংখ্যা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু টক্সিক-এর মতো বিশাল পরিসরের সিনেমার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানকে রীতিমতো বিপর্যয়কর বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা। সিনেমাটির সঠিক বাজেট কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এর বাজেট ৫০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত বলা হয়েছে। সবচেয়ে কম, অর্থাৎ ৫০০ কোটি রুপি বাজেট ধরলেও নেট বক্স অফিস আয়ে সিনেমাটি এখনো প্রায় ২৩০ কোটি রুপি পিছিয়ে। তবে আদতে এর নির্মাণ ব্যয় আরো বেশি বলেই মনে করে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

আরো পড়ুন: ‘টক্সিক’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘খারাপ’ সিনেমার মুখোশ পরে থাকে

adipurush

‘আদিপুরুষ’-এর রাম ও রাবণ

কোনো বড় ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় ঘাটতি। এমনকি ২০২৪ সালে প্রভাস অভিনীত আদিপুরুষের ক্ষেত্রেও এমন হয়নি। সিনেমাটি ২২০ কোটি রুপি লোকসান করেছিল। টক্সিক তার চেয়েও বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে। ওম রাউত পরিচালিত আদিপুরুষ ৫৫০ কোটি রুপি বাজেটের বিপরীতে প্রায় ৩৩০ কোটি রুপি নেট আয় করেছিল। ফলে কাগজে-কলমে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সমালোচিত ভারতীয় সিনেমাগুলোর একটি আদিপুরুষ-এর চেয়েও বড় ফ্লপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে টক্সিক।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস