করোনা মহামারীর সময় অনেকেই গৃহবন্দি জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। অনেক নতুন ধারা সূচনা হয়েছে ওই সময়ে, যার একটি বিনোদনমাধ্যম ওটিটি প্লাটফর্ম। গৃহবন্দি জীবনে বিশ্বব্যাপী অনেক বিনোদনপ্রেমী সাবস্ক্রাইব করেছেন বিভিন্ন ওটিটি মাধ্যম। আমাদের দেশেও এ ধারা বহমান। বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে এ দেশেও বেড়েছে ওটিটি প্লাটফর্মের চাহিদা, যার মূল কারণ ওটিটির কনটেন্টের ভিন্নটা। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, এইচবিও ম্যাক্স, ডিজনি প্লাস ইত্যাদি। আমাদের দেশে বায়োস্কোপ, চরকি, বিঞ্জ, আই স্ক্রিন, দীপ্ত প্লে বিভিন্ন ওটিটি প্লাটফর্মের আগমন দেশীয় দর্শকের রুচির পরিবর্তনকেই ইঙ্গিত করে। এছাড়া ভারতীয় ওটিটি প্লাটফর্ম হইচই এ দেশেরই নির্মাতাদের কনটেন্ট থাকায় সমান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অন্যান্য ওটিটির সঙ্গে। দেশের বিনোদন অঙ্গনের তারকারা কী ভাবেন ওটিটি নিয়ে, এটি জানতে বিভিন্ন সময় কথা হয় তাদের সঙ্গে। যার কিছু অংশ দেয়া হচ্ছে এ প্রতিবেদনে।
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমির সঙ্গে কথা হয় ওটিটি নিয়ে। জানতে যাওয়া হয়, ওটিটি প্লাটফর্ম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখছেন। জবাবে আফসানা মিমি বলেন, ‘আমি মনে করি, ওটিটি আরো জনপ্রিয়তা পাবে। তবে ভালো কনটেন্ট দিয়েই এখানে টিকে থাকতে হবে। ওটিটির বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে অনেক কনটেন্ট রয়েছে। দর্শকের নিজস্ব ভাবনা আর রুচি থাকে, সে অনুযায়ী তিনি ঠিক করে নেন কী দেখবেন। টেলিভিশনে কিন্তু নিজের পছন্দ করে অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ নেই, যেটা ওটিটিতে রয়েছে।’
গুণী নির্মাতা আশফাক নিপুন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে তার কাজ সমাদৃত হয়েছে বিশ্বের দর্শকের কাছে। আশফাক নিপুনের ওয়েব সিরিজ মহানগর এতটাই জনপ্রিয় হয় যে গত বছর কলকাতার পূজামণ্ডপে রীতিমতো ওসি হারুণ ছবি দিয়ে তৈরি হয়েছিল তোরণ। ওটিটি নিয়ে আশফাক নিপুণ বলেন, ‘একটা ভালো কাজ হলে সেটা সীমানা পার করে বাইরে যাবেই। আমরা ভালো কাজ করতে পারলে তা সবাই গ্রহণ করবে। একটা সময় আমরা বড় বাজেট নিয়ে কাজ করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সক্ষমতা আছে। এখন নানা প্লাটফর্ম সে সুযোগ দেয়ার কারণে কাজগুলো করে দেখাতে পারছি। ওটিটির একটা বড় সুবিধা হচ্ছে বিশ্বের বহু মানুষের কাছে কনটেন্ট পৌঁছে দেয়া যায়। এমনকি ভাষার বাধাও থাকে না। আমার কাজগুলো হইচই থেকে হিন্দি, তামিল ভাষায় ডাব করা হয়েছে। সে ভাষাভাষী দর্শকও আমাদের দেশের কনটেন্টের সঙ্গে পরিচিত হতে পারছেন। ফলে কাজের সুযোগ ও পরিধি বাড়ছে।’
দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। বাংলাদেশে ওটিটি প্লাটফর্মের বাজার নিয়ে জানতে চাইলে এ নির্মাতা বলেন, ‘আমাদের দেশের কনটেন্ট দুর্দান্ত হচ্ছে। তবে এও ভাবি, আমরা যেন কাজের খেই হারিয়ে না ফেলি। স্বজনপ্রীতি, গ্রুপপ্রীতি কিংবা সিন্ডিকেট করে এ প্লাটফর্মটা নষ্ট না করলে ভালো হয়।’
কাইজারের অন্যতম একটি চরিত্রে দেখা গিয়েছিল, দ্বীপান্বিতা মার্টিনকে। জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ওটিটি নিয়ে তার ভাবনা কী। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ প্লাটফর্মে কাজ করতে পছন্দ করি। কারণ এখানে স্টোরিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। আর প্রতিটি চরিত্রই সমান গুরুত্ব বহন করে। এখানে গল্পই মূল হিরো। তাই আমি মনে করি, যখন গল্পটাই মূল হিরো তখন প্রতিটি চরিত্র হিরো। এজন্য আমার ওটিটি প্লাটফর্ম অনেক পছন্দ।’
আমাদের দেশের দর্শক বর্তমান সময়ে ভিন্নধর্মী কনটেন্টের খোঁজে ঝুঁকছেন ওটিটি প্লাটফর্মের প্রতি। দর্শকের আগ্রহ সামনে রেখে দেশের বাজারে যুক্ত হয়েছে একাধিক দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম। দেখার পালা, সময়ের সঙ্গে ওটিটির কনটেন্টের মান ও দর্শকের রুচির ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।










