দেখেছেন চলচ্চিত্র সমালোচক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। প্রথম প্রদর্শনীর পরই সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বন্যা বইছে। তাদের মতে এবারের স্পাইডার-ম্যান সবচেয়ে বেশি ‘ডাউন টু আর্থ’, ‘রোমাঞ্চকর ও আবেগঘন’। টমের পারফরম্যান্সও প্রশংসিত হয়েছে।

ফ্যানড্যাঙ্গোর সংবাদদাতা এরিক ডেভিস এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন নির্মিত এ সিকুয়াল আগের তিনটি সিনেমার তুলনায় আরো গভীর, চিন্তাশীল ও পরিণত। তিনি লেখেন, ‘এ পরিণত ভাব শুধু গল্পেই নয়, অ্যাকশন দৃশ্যেও ফুটে উঠেছে। সিনেমাটি একদিকে গোয়েন্দা কাহিনী, অন্যদিকে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, আবার বন্ধুত্বপূর্ণ কমেডিও।’

সমালোচক ওয়েন্ডি লি সজানি লিখেছেন, ব্র্যান্ড নিউ ডে নিয়ে তার কোনো অভিযোগই নেই। তার মতে, সিনেমাটিতে রয়েছে উচ্চমানের অ্যাকশন এবং এমন কয়েকটি দৃশ্য, যা দর্শককে আবেগাপ্লুত করবে।

টেলিভিশন উপস্থাপক ও বিনোদন সাংবাদিক ব্র্যান্ডন পোপও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সিনেমাটিকে। তিনি লিখেছেন, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে সম্ভবত মার্ভেলের সবচেয়ে ‘‘মার্ভেলসুলভ’’ সিনেমা। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয় ঐতিহ্যকে—বিশেষ করে স্যাম রাইমির চলচ্চিত্রগুলো—সম্মান জানিয়ে একই সঙ্গে প্রাণবন্ত ও রোমাঞ্চকর একটি সিনেমা তৈরি করেছেন। হাল্ক ও পানিশারের উপস্থিতি দারুণ। বড় চমকটিও প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এটি টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যান সিরিজের সেরা সিনেমা।’

চলচ্চিত্র সমালোচক পিটার হাওয়েলও সিনেমাটির প্রশংসা করে লিখেছেন, ব্র্যান্ড নিউ ডে মাল্টিভার্সের জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আবারো শহরকেন্দ্রিক স্পাইডার-ম্যানের গল্পে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘স্ট্যান লি যেমনভাবে স্পাইডার-ম্যান বা পিটার পার্কারকে কল্পনা করেছিলেন, টম হল্যান্ড এবার সে চরিত্রের ব্যঙ্গ, মানসিক দ্বন্দ্ব ও প্রেমের টানাপড়েন নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। ‘‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’’-এর পর রয়ে যাওয়া আবেগঘন সংকটগুলোও সিনেমাটি সুন্দরভাবে সামাল দিয়েছে। পাশাপাশি এক ভয়ংকর টেলিপ্যাথিক ভিলেনের আবির্ভাব ঘটেছে। জেনডায়া, জ্যাকব ব্যাটালন, জন বার্নথাল, মার্ক রাফালো ও ‘‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’’ তারকা স্যাডি সিংকও শক্তিশালী অভিনয় করেছেন।’

নেক্সাস পয়েন্টের কেভিন ভার্মা লিখেছেন, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডের মতো একটা সূচনা প্রয়োজন ছিল মার্ভেলের। টম হল্যান্ডকে এর আগে কখনো এত ভালো লাগেনি। স্পাইডার-ম্যান ও পানিশারের জুটি অসাধারণ। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন। তবে আসল নায়ক চিত্রনাট্য—রোমাঞ্চকর, আবেগঘন ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চরিত্রনির্ভর।’

ব্র্যান্ড নিউ ডে ঘিরে প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। কারণ ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম বিশ্বব্যাপী ১৯০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। ২০১৯ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ আয় করেছিল ১১০ কোটি মার্কিন ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’-এর মতো সাফল্য এবং ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’-এর মতো হতাশার মধ্য দিয়ে যাওয়া মার্ভেলের জন্য বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্র্যান্ড নিউ ডে আবারো স্টুডিওটিকে শক্তিশালী বক্স অফিস অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পারে, বিশেষ করে ডিসেম্বরের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ মুক্তির আগে। উল্লেখ্য, স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে ৩১ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পাচ্ছে।

সূত্র: ভ্যারাইটি