মাল্টিভার্স ছাড়া মার্ভেল যেন কিছুই দেখছিল না। ডক্টর স্ট্রেঞ্জ দিয়েই শুরু বলা যায়। এরপর এর যেকোনো সিনেমা এলেই সেখানে মাল্টিভার্সের একটা বড় অংশ থাকবে। কিন্তু মার্ভেলের দর্শকদের পছন্দ ছিল অ্যাভেঞ্জার্স, গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সির প্রতিটি চরিত্রের ডিটেল। এক্ষেত্রে প্রথমেই থাকে একটা জমাট গল্পের কথা। সে গল্পের পর যুক্ত হয় চরিত্রের ডিটেল। মার্ভেলের ‘‌আয়রন ম্যান’ থেকে শুরু করে ‘‌ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ পর্যন্ত এমনটাই দেখা গেছে। সেখান থেকে যেন খানিকটা সরে গিয়েছিল মাল্টিভার্সের হাতছানিতে। সেখান থেকেই অনেকটা বেরিয়ে মার্ভেলের পুরনো ধারাকে মনে করিয়ে দিলেন জেমস গান।

গার্ডিয়ানদের গল্প আসলে থেমেছিল কোথায়? এ সিনেমায় কার গল্প বলা হবে, সে কথাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, এ গল্প মূলত পিটার কুইলের। কেননা গার্ডিয়ানদের দলনেতা সে-ই। পাশাপাশি গামোরার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন একটি গল্প তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। থ্যানোসের দ্বারা গামোরাকে বিসর্জনের গল্প তো মার্ভেল ভক্তদের জানা। স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের তাই মনে হয়েছিল, এবার পিটার কুইল ও গামোরার গল্প হবে। গামোরাকে ফিরিয়ে আনা হোক বা না হোক, অন্তত চেষ্টা করবেন পরিচালক। কিন্তু সেভাবে এগােলেন না জেমস গান। গল্প কিছুটা সেদিকে এগিয়েছে। কিন্তু এর পাশে তিনি এনেছেন রকেটের গল্প। রকেটের রকেট হয়ে ওঠা থেকে শুরু করে গার্ডিয়ানদের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো জেমস গান বলেছেন দুর্দান্তভাবে।

গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সির এবারের ভলিউমে দেখা গেছে হাই ইভল্যুশনারিকে। পাগলা এ বৈজ্ঞানিক নিজেকে ঈশ্বরগোত্রীয় মনে করে এবং সে অনুসারে কিছু এক্সপেরিমেন্ট করার চেষ্টা করে। রকেট সেখানে তার নিরীক্ষার অংশ হয়ে ওঠে। রকেট পালিয়ে যায়, কিন্তু হারায় তার প্রিয়তমা লাইলাকে। গল্পের ধারা অনুসারে রকেট ছিল হাই ইভল্যুশনারির সফলতম কাজ। ফলে সে রকেটকে যেকোনো মূল্যে আবার ধরতে চায়। এ নিয়ে গল্পে শুরু হয় আবার টানাপড়েন।

এর মধ্যেই চলে আসে কুইল ও গামোরার গল্প। এরপর থাকে ড্র্যাক্স, গ্রুট। গার্ডিয়ানদের পুরনো দলটিকে আবার একসঙ্গে দেখা যায়। রকেটের মূল বিষয়টি গল্পের মধ্যে এসে প্রধান জায়গা নেয়। এক্ষেত্রে রকেট এ সিনেমার নায়ক। মার্ভেলের পুরনো ধারার সিনেমা বলার কারণ হচ্ছে, এর আগে আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকায় দর্শক যেভাবে এক একটি চরিত্রের তৈরি হওয়া দেখেছে এ সিনেমায়ও সেভাবে রকেটের তৈরি হওয়া দেখানোর চেষ্টা করেছেন জেমস গান। বলে রাখা ভালো, সিনেমাটির নাম ‘‌রকেট’ নয় যে কেবল রকেটের গল্প দেখানো হবে। সে কারণে গার্ডিয়ানদের মধ্যে রকেটকে যতটা বিস্তারিতভাবে দেখানো সম্ভব, জেমস গান তা দেখিয়েছেন।

মার্ভেলের সাম্প্রতিক সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকের অভিযোগ ছিল যে এর ভিজুয়াল ভালো হলেও এত বেশি জটিল যে সিনেমার মূল গল্পের সঙ্গে সে সংযোগ তৈরি করতে পারে না। কিন্তু গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম থ্রিতে এ সমস্যা নেই। সিনেমাটি তার প্রয়োজন অনুসারে ভিজুয়াল ইফেক্টস ব্যবহার করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জেমস গানের উইটফুল কমেডি। গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমাগুলো এর মধ্যে থাকা কমেডি ও পাঞ্চ লাইনের জন্য বিখ্যাত। সে ধারায় কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল গত কয়েকটি সিনেমায়। এবার সে জায়গা থেকে পরিবর্তন এসেছে। ঠিকঠাক এভাবে আগের সিনেমাগুলো হয়নি। এবারের সিনেমায় সে জায়গাটি আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।

জেমস গানের এবারের সিনেমাটি ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ সিনেমা। বলা যায়, এ কারণেই জেমস গানের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল সিনেমাটিকে নিজের সেরা সবটা দিয়ে নির্মাণ করা। এ কথা বলছেন মার্ভেলের ভক্তরাই। তারা গান, মার্ভেল ও গার্ডিয়ানদের যেভাবে চেয়েছিলেন, এ সিনেমায় সেভাবেই পেয়েছেন। একটা রোলার কোস্টার রাইড দিয়েছেন গান। সেখানে দুর্দান্ত ভিএফএক্সের সঙ্গে ছিল অ্যাকশন ও স্টোরি। এছাড়া গান (মিউজিক) তো ছিলই। তবে এবার যেন জেমস চেষ্টা করেছেন শেষ সিনেমায় দর্শকদের কাঁদানোর। রকেটের গল্পে দর্শক আসলেও কেঁদেছে। এমন একটি সিনেমার ক্ষেত্রে এমন একটি সমাপ্তিই ছিল তাদের চাহিদা। সেখানে গান সফল। এ কারণে সিনেমাটিকে এ সময় মার্ভেলের সেরা সিনেমা বলা হচ্ছে।