অ্যাঞ্জেলিনা জোলি পরিচালিত সিনেমা ‘উইদাউট ব্লাড’। গল্পের কেন্দ্রে থাকা নিনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সালমা হায়েক। শৈশবে সংঘটিত এক যুদ্ধ নিনার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল তার বাবা ও ভাইকে। আপনজন হারানোর সে শোক ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রতিশোধের অপেক্ষায়। এরপর নিনার জীবনে দীর্ঘ সময় কেটে যায় সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে। এভাবেই এগিয়েছিল ইতালীয় লেখক আলেসান্দ্রো বারিকোর উপন্যাস। এ উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে সিনেমাটি নির্মাণ করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

যুদ্ধ-সংঘাত একসময় থেমে গেলেও যুদ্ধের পর মানুষের ভেতরে থেকে যাওয়া ক্ষতকে সামনে আনে এ সিনেমা। তবে চলচ্চিত্রটিতে জোলি নির্দিষ্ট কোনো দেশ, সময় কিংবা যুদ্ধের নাম উল্লেখ করেননি। তার ভাষায়, ‘আমি চেয়েছিলাম, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ যেন এটি দেখার পর গল্পটির সঙ্গে নিজের জীবনের কোনো না কোনো মিল খুঁজে পায়।’ জোলির মতে, সেটি বাস্তব কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত না হলেও চলে। কারণ মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটনা থাকে, যা তাকে ভেঙে দেয়, বদলে দেয়—আর সে ভাঙনের জায়গায়ই মানুষ বারবার ফিরে আসে। সে মানুষের সামনে বসে নিজের কথা বলা, কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কিংবা শুধু নিজের কষ্টটুকু তাকে বোঝাতে পারার আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে থাকে নিরাময় ও পরিসমাপ্তির সম্ভাবনা।

‘আমরা ফিরে আসি সে জায়গায়, যেখানে আমরা ভেঙে পড়েছিলাম’—বইয়ের এ কথাকেই যেন সিনেমাটি আরো বিস্তৃত এক মানবিক অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়।

গল্পের নিনা যখন তার বাবা-ভাইয়ের হত্যার তৃতীয় সহযোগী টিটোর মুখোমুখি হয়, তখন গল্পের মোড় বদলে যায়। টিটো তখন আর যুদ্ধক্ষেত্রের মানুষ নয়। একটি ট্রেন স্টেশনের খবরের কাগজের দোকানে সাধারণ এক কর্মচারী হিসেবে তার দিন কাটে। বহু বছর পর নিনা ও টিটো এক টেবিলে ড্রিংকস হাতে মুখোমুখি বসে আর কথোপকথনের ফাঁকে ফাঁকে ফিরে আসে তাদের দুজনের যন্ত্রণাদায়ক অতীত আর ক্ষতবিক্ষত জীবনের স্মৃতি। জোলির সঙ্গে এক যৌথ সাক্ষাৎকারে হায়েক বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে হয়তো এ চরিত্রে অভিনয় করতে পারব না। কিন্তু অ্যাঞ্জেলিনা যখন আমার সঙ্গে গল্পটির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন, তখন বুঝলাম—তিনি একজন অসাধারণ পরিচালক।’

যুদ্ধ ও ট্রমা অবশ্য জোলির নির্মাণে নতুন কোনো বিষয় নয়। ইন দ্য ল্যান্ড অব ব্লাড অ্যান্ড হানি এবং আনব্রোকেন—প্রতিটি চলচ্চিত্রেই সংঘাতের ভিন্ন মানবিক অভিঘাত ও তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব উঠে এসেছে। মানুষের ভেতরের না দেখা ক্ষত, তার মুখোমুখি দাঁড়ানো এবং নিরাময়ের সম্ভাবনাকেই পর্দায় তুলে ধরেছেন জোলি নির্মিত ও সালমা হায়েক অভিনীত সিনেমাটি। ফলে যুদ্ধের গল্পের বাইরে এটি হয়ে উঠতে পারে মানুষের ভেঙে পড়া এবং আবার নিজেকে খুঁজে পাওয়ারও এক গল্প।

সূত্র: ভ্যারাইটি