ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এর মধ্যেই এ বছর সাড়া পেয়েছে সামান্থা রুথ প্রভু অভিনীত ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’। বক্স অফিসে আয় করেছে ১০০ কোটি রুপি। অথচ এ অভিনেত্রী বছর তিনেক আগে অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন। ২০২২ সালে মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হন তিনি। এ অবস্থায় শুটিং করেছিলেন ‘সিটাডেল: হানি বানি’র। শুটিংয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হওয়ার পর অভিনয় ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন। এ রকম একটা সময়েই রাজ নিদিমোরু তাকে মা ইন্তি বাঙ্গারামে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন।
অভিনয়জগৎ ছাড়ার কথা কেন ভেবেছিলেন, সে বিষয়ে দ্য হলিউড রিপোর্টারকে সামান্থা বলেন, ‘এক বছর বিরতি নেয়ার পর মনে হলো, আমি অন্য কিছু করতে চাই। একই সঙ্গে কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলাম। কারণ স্বাস্থ্যগত দিক থেকে আমাকে ধীরে চলতে এবং অন্য কিছু করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। আমি সে পরামর্শ খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলাম।’
পেশা হিসেবে অভিনয় শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই কঠিন। তুলনামূলক কম চাপের কাজ খুঁজতে শুরু করেন সামান্থা। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কিছু খুঁজছিলাম, যা সত্যিই বিশ্বাস করি। আমি অনেক অনেক ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছি। আমি আসলে ধারাবাহিক উদ্যোক্তা।’
একপর্যায়ে ক্যামেরার পেছনে কাজ করেই আনন্দ খুঁজে পেতে শুরু করেন সামান্থা। তবে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নিয়ে তার মধ্যে সংশয় ছিল। সিটাডেলের শুটিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ের সময় আমি অসুস্থ ছিলাম এবং সে অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। কিন্তু চাইনি যে প্রজেক্টটা আমার জন্য ঝুলে যাক। তাই কাজ করে গেছি।’
এদিকে মা ইন্তি বাঙ্গারামেও অভিনয় করার ইচ্ছা সামান্থার ছিল না। তিনি কেবল প্রযোজনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামান্থাকে ক্যামেরার সামনে আনার চেষ্টা করছিলেন রাজ নিদিমোরু। সিনেমাটির জন্য প্রথমে সাই পল্লবীকে প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি ‘না’ করায় প্রস্তাব যায় সামান্থার কাছে।
তবে সিনেমাটির সম্ভাবনা বুঝেছিলেন সামান্থা। তার মনে হয়েছিল, নারীরা পছন্দ করবে এ গল্প। এমন একটা সম্ভাবনাময় গল্প পড়ে থাকুক তিনি চাননি। শুটিং ও তাকে অভিনয়ে ফেরানোর সব কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন বর্তমান স্বামী রাজ নিদিমোরুকে।
এর পরও অবশ্য নানা অনিশ্চয়তা ছিল। কত আয় হবে তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন সবাই। সামান্থা বলেন, ‘আমি জানতাম না, আমি একটি টিকিটও বিক্রি করতে পারব কিনা। কারণ তিন বছর ধরে আমার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। আমার অভিনীত একটি সিনেমা দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না।’
সেসব শঙ্কা কাটিয়ে সিনেমাটি আবারো সামান্থাকে ফেরাল দর্শকের কাছে। এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত সামান্থা। দর্শকের জন্য সামনে আরো কাজ নিয়ে আসবেন সে কথা জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার










