স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা আদিম কুইন্স ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে। ১২তম কুইন্স ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আদিম অর্জন করে নিয়েছে ‘বেস্ট অব দ্য ফেস্ট’ বিভাগের পুরস্কার। উৎসব কর্তৃপক্ষ শনিবার রাতে ইউটিউব লাইভের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে। এতেই জানা যায় বেস্ট অব দ্য ফেস্ট বিভাগের বিজয়ী যুবরাজ শামীমের আদিম। নতুন এ অর্জন নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেন তরুণ নির্মাতা যুবরাজ শামীম। তিনি বলেন, ‘পুরস্কার প্রাপ্তির তাৎক্ষণিক অনুভূতি প্রকাশ করা একটু কঠিন। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে এটা ভেবে যে আমরা এখন আদিম মুক্তির প্রক্রিয়ার মাঝে আছি, শিগগির আমরা আদিম মুক্তির তারিখ ঘোষণা করব। এর আগ মুহূর্তে এ অর্জন আমাকে আরো বেশি উৎসাহ দিচ্ছে, সাহস জোগাচ্ছে। এটা আমাকে আরো বেশি তাড়িত করছে সিনেমাটি আমার দেশের মানুষকে দেখানোর জন্য। বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। আদিমের এই অ্যাওয়ার্ড আমার একার না। আমার মতো অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা রয়েছেন, যাদের আদিম উৎসাহিত করবে। আমাকে অনেকেই এটা নিয়ে বলেন। তাই আমার কাছে কখনই মনে হয় না আদিমের যাত্রাটা কেবল আমার। এটা আমার মতো স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কারণ তারা উৎসাহ পায়। সেজন্য এ অর্জন আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
শামীম আরো বলেন, ‘কুইন্সের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর প্রেস্টন ক্যাটোর আদিমের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, তার জীবনে এমন সিনেমা তিনি এর আগে দেখেননি। নিউইয়র্কে সিনেমাটি প্রদর্শনের সময় অনেক প্রবাসী বাঙালি ছিলেন। তারাও সিনেমাটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এসব আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। এটাই তো শক্তি চলার। এসব প্রশংসা শুনে মনে হচ্ছে এটা অ্যাওয়ার্ডের থেকেও বড় প্রাপ্তি আমার জন্য। তবে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে ভিসা জটিলতার কারণে আমি কুইন্সওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যেতে পারিনি। আমি ভিসা কেন পাইনি। এই না পাওয়ার কারণ বলতে গেলে খারাপ অভিজ্ঞতার কথাই বলতে হবে। আপাতত খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে চাই না, দেশের মানুষকে আদিম দেখাতে চাই শুধু। খুব তাড়াতাড়ি মুক্তির দিন ঘোষণা করব।’
বেস্ট ফিল্ম ফর ন্যারেটিভ ফিচার ফিল্ম, বেস্ট ডিরেক্টর ফর ন্যারেটিভ ফিচার ফিল্ম, বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি ফর ন্যারেটিভ ফিচার ফিল্ম—এ তিন বিভাগে কুইন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ১২তম আসরে লড়েছে আদিম। ১ নভেম্বর শুরু হওয়া এ উৎসবের পর্দা শেষ দিন ছিল গতকাল। কুইন্সের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর প্রেস্টন ক্যাটোর আদিম নিয়ে বলেন, ‘আমার জীবনে এ রকম সিনেমা আগে কখনো দেখিনি। এ উৎসবে অনেক সিনেমা দেখেছি, তবে তার মাঝে এটি সবচেয়ে বাস্তবিক। বদলে যাওয়া একটি দেশে মানুষের জীবনের গল্প। আদিমের মানুষগুলো এত জীবন্ত ছিল যে আত্মার সঙ্গে গেঁথে যায় প্রতিটি মুহূর্ত। জীবন ও মৃত্যু মিশে আছে সেখানে। সিনেমাটি দেখার সময় আমার মনে হয়েছে বাস্তবতা দেখছি।’
আদিমের গল্পটা টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠবস্তির বাসিন্দাদের নিয়ে। এতে অভিনয়ও করেছেন বস্তির বাসিন্দারাই। এমনকি সিনেমাটা নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে সাত মাস বস্তিতে ছিলেন যুবরাজ শামীম। আদিমের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাদশা, দুলাল, সোহাগী, সাদেক। চিত্রগ্রহণে ছিলেন আমির হামজা। সাউন্ড ও কালার করেছেন সুজন মাহমুদ। ৪৪তম মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সিলভার সেন্ট জর্জ অ্যাওয়ার্ড ও নেটপ্যাক সম্মাননা পেয়েছে যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা আদিম। সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে আর্থিক জটিলতার মধ্যে পড়েন শামীম। পরে সিনেমাটির নির্মাণ বিষয়ে অর্থায়নের জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এর শেয়ার বিক্রি করে ২০১৮ সালে শুটিং শুরু হয়। গণ অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল সিনেমাটি।










