চলমান মহামারীর কারণে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ ছিল থিয়েটারের সব কার্যক্রম। জুনে লকডাউন শিথিল হলে ধীরে ধীরে সরব হতে থাকে ছোট পর্দা। তবে তখনো উন্মুক্ত পরিসরে মঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়নি। কিন্তু থেমে ছিল না দলগুলোর অনলাইনভিত্তিক নানা কার্যক্রম। অবশেষে গত ২৮ আগস্ট মঞ্চের পর্দা ওঠে। করোনা পরিস্থিতির মাঝেই এদিন বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে নাটক ‘লালজমিন’-এর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এরপর আরো বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এ নাটকের। ‘লালজমিন’-এর প্রদর্শনীর পর আরো কিছু থিয়েটার দল সরব হতে থাকে। মঞ্চনাটকের প্রদর্শনীর আয়োজন হয়েছে বেশ কয়েকটি। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘অবসাদ বিরুদ্ধ স্রোত’ স্লোগানে গত ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয় থিয়েটার দল প্রাচ্যনাটের আয়োজনে মাসব্যাপী উঠান নাটক মেলা ‘মহলা মগন ২০২০’। ৩ অক্টোবর জার্মান কবি গ্যেটের কাব্যনাট্য অবলম্বনে ‘ফাউস্ট অথবা অন্য কেউ’ নাটকের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মাসব্যাপী এ নাটক মেলা। মাসব্যাপী আয়োজনে নাট্যমেলায় দ্য জু স্টোরি, দ্য ডাম্ব ওয়েটার, হান্ড্রেড বাই হান্ড্রেড, কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না, ফাউস্ট অথবা অন্য কেউ নাটকগুলো মঞ্চস্থ হয়েছে।


 

দেশের থিয়েটার অঙ্গনে অন্যতম একটি নাট্যসংগঠন বটতলা। দলটি এখনো উন্মুক্ত পরিসরে আনুষ্ঠানিক কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি। তবে প্রস্তুতি চলছে দলের সদস্যদের। করোনার এ সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনলাইন হয়ে উঠেছে যোগাযোগ ও নানাবিধ কার্যসম্পাদনে নির্ভরতার জায়গা। করোনা শুরুর পর থেকে অনলাইনে সরব ছিল দলটি। অনলাইনভিত্তিক নানা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে, এখনো যাচ্ছে। এমনকি ঈদুল ফিতরে অনলাইনে দলটির আলোচিত নাটক ‘ক্রাচের কর্নেল’ প্রর্দশিত হয়। দলের বর্তমান অবস্থা ও কাজকর্ম সম্পর্কে খোঁজ নিতে যোগাযোগ করা হয় বটতলার অভিনেতা ও নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দারের সঙ্গে। থিয়েটার কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কী ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, বটতলা সামনে প্রদর্শনীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু নতুন নাটকের পরিকল্পনা করেছেন তারা। মহড়া চলছে সেসবের। ডিসেম্বরে প্রর্দশনীর জন্য মাঠে নামবেন বটতলার সদস্যরা। যে নাটকগুলো নিয়ে আগামীতে দর্শকদের সামনে হাজির হবে বটতলা সেগুলো হলো:

‘মার্ক্স ইন সোহ’ মঞ্চ নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন নায়লা আজাদ নুপুর। একক অভিনয় করবেন পঙ্কজ মজুমদার। ‘যোজনগন্ধা মায়া’র নির্দেশনা দিচ্ছেন বদরুজ্জামান আলমগীর ও মোহাম্মদ আলী হায়দার। একক অভিনয়ে থাকবেন সামিনা লুত্ফা নিত্রা। এ নাটকে চারজনের একটা মিউজিক টিমও থাকবে। ‘দারিও ফোর রাইস অ্যান্ড শাইন’ নাটকটি রূপান্তর করেছেন আব্দুস সেলিম। নির্দেশনায় মুহাম্মদ সায়ীদ ও লোচন পলাশ। একক অভিনয় করবেন ইভা আফরোজ খান। ‘মাই বডি মাই চয়েস’—এ বিষয়ের ওপর একটি নাটক লিখছেন নাট্যকার সামিনা লুত্ফা নিত্রা। নাটকে অভিনয় করবেন কাজী রোকসানা রুমা ও তাসনুভা শিশির। করোনার সময় খুব অল্প সদস্য নিয়ে যাতে নাটকগুলো মঞ্চস্থ করা যায় সেভাবেই গল্পগুলো ভাবা। গত সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে নতুন এসব নাটকের কাজ।


করোনাকালে কীভাবে চলছে অনুশীলন? শারীরিক দূরত্ব মেনে ছোট ছোট টিমে ভাগ হয়ে অনুশীলন চলছে। সপ্তাহে শুক্র ও শনি দুদিন অনুশীলন করা হয়। মাঝে মাঝে অনলাইনেও বসা হয়। এমনটাই জানালের দলটির নির্দেশক আলী হায়দার।

নতুন নাটকের মহড়ার পাশাপাশি বর্তমানে দলটির অনলাইন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। করোনাকালীন ঘরবন্দি সময়ে ঘরে বসেই যাতে থিয়েটার কর্মীরা থিয়েটার বিষয়ে শিক্ষা নিতে পারেন তাই বটতলা আয়োজন করে অনলাইন ক্লাসের, যা এখনো চলছে। এ আয়োজনে গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হন এবং থিয়েটার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।