নাট্যদল হিসেবে অনুস্বরের যাত্রা খুব বেশি দিনের নয়। মাত্র দেড় বছর। দলটি ‘মূল্য-অমূল্য’
নামে নতুন একটি নাটক নিয়ে এসেছে। আরো একটি নতুন নাটক মঞ্চে আনতে চলেছে তারা। নিজেদের নাটক, তত্পরতা ও দেশের থিয়েটার চর্চার হালহকিকত নিয়ে সম্প্রতি টকিজের সঙ্গে কথা বলেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বারী
অনুস্বরের নতুন নাটক ‘তিনকড়ি’
অনুস্বর নাট্যদলের চতুর্থ প্রযোজনা ‘তিনকড়ি’। নাটকটির তিনদিনের আবাসিক মহড়া ক্যাম্প শুরু হয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি সাভারে। ২৬ জনের বড় টিম নিয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলেছে টানা রিহার্সেল। গতকাল ছিল রিহার্সেলের শেষ দিন। মাহবুব আলম রচিত নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন সাইফ সুমন। দেশভাগের আগে বগুড়া জনপদের গল্প নিয়ে ‘তিনকড়ি’ নাটক। দেশভাগের আগে সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার প্রভাব এ জনপদটিতেও এসে পড়ে। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু গল্পে দেখা যাবে, শেষ পর্যন্ত তিনকড়ি তার চেতনার জায়গা থেকে দেশে থেকে যান এবং সবাইকে আহ্বান জানান মাতৃভূমিকে ছেড়ে না যেতে। এই তিনকড়িকে ঘিরেই নাটকটি এগিয়ে যাবে। তিনকড়ি চরিত্রে অভিনয় করছেন দলের সদস্য এফ আর সম্পদ। নাটকে খুব ছোট একটি চরিত্রে রয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বারী।
নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন ১২ ফেব্রুয়ারি মহিলা সমিতির মঞ্চে সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। একটি মঞ্চনাটকের সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় সম্পৃক্ত থাকে যেমন—কস্টিউম, সেট নির্ধারণ, লাইটিং, হল ভাড়াসহ নানা কিছু। এ সবকিছুর সমন্বয়েই একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। এসবের পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও নিছক কম নয়। ‘তিনকড়ি’
নাটকটি মঞ্চে আনতে অনুস্বরকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা।
‘মূল্য-অমূল্য’,
দর্শকের সাড়া ও আয়-ব্যয়ের হিসাব
‘মূল্য-অমূল্য’ অনুস্বর নাট্যদলের সাম্প্রতিক প্রযোজনা। গত ৬ নভেম্বর নাটকটি মঞ্চে আসে। আর্থার মিলারের ‘দ্য প্রাইস’ অবলম্বনে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। ভাবানুবাদ করেছেন অসীত মুখোপাধ্যায়। আর নাটকটিকে বাংলাদেশের সমাজ প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছেন নির্দেশক মোহাম্মদ বারী। নাটকের গল্প মূলত সম্পর্ক ভাঙার। সম্পর্ক একটি চিরকালীন ব্যাপার। পুঁজির বিকাশের ফলে অর্থের পেছনে ছোটাছুটি করতে গিয়ে মানুষ সম্পর্কগুলো নষ্ট করে ফেলছে। সম্পর্ক নষ্টের পেছনের কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যকারণগুলোর যথেষ্ট প্রভাব বিদ্যমান। উঠতি পুঁজিবাদী সমাজে এ বিষয়গুলো বেশি ঘটতে দেখা যায়। এ ধরনের ভাবনাকে কেন্দ্র করে নাটকটি নির্মিত।
কেমন ছিল ‘মূল্য-অমূল্য’ নাটকটির দর্শক প্রতিক্রিয়া? নাটকটির দর্শক প্রতিক্রিয়া ভালো ছিল বলে জানালেন নির্দেশক মোহাম্মদ বারী। অন্তত করোনার এই সময়টাতে নাটকটিকে সফলই বলতে চান তিনি। নাটকটির প্রথম দুটি শো ছিল হাউজফুল। পরের দুটি শোও ভালো গেছে। শিল্প মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলার মঞ্চে আবারো প্রদর্শিত হবে ‘মূল্য-অমূল্য’। এটি হবে নাটকটির পঞ্চম প্রদর্শনী। ‘মূল্য-অমূল্য’ মঞ্চে আনতে দলটির ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। সেদিক থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল খুবই নগণ্য। তবে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টা প্রত্যাশা করাও উচিত নয়—বললেন মোহাম্মদ বারী। বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘করোনা পরিস্থিতির আগেও নাট্যদলগুলো নাটক প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে লাভের কথা চিন্তা করতে পারত না। অন্যদিকে ব্যয়ের অর্থটাও দলগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে করতে হয়। এর কারণ থিয়েটারকে এখনো পেশাদারিত্বের জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এটা এখনো সন্ধ্যাকালীন অনুশীলনের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এখান থেকে মোটা অংকের অর্থ আয় করা সম্ভব নয়। করোনার সময় এ অবস্থা হয়েছে আরো নাজুক। সাধারণত ভালো মানের নাটকগুলো বাইরে বিভিন্ন উৎসব ও স্থানে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এসব জায়গা থেকে মোটামুটি পরিমাণের একটা অর্থ আয় হয়, যা টিকিট বিক্রির অর্থের চেয়ে বেশি।’
দেড় বছরে দুই নতুন নাটক
দেড় বছরের যাত্রায় ‘মূল্য-অমূল্য’ ও ‘তিনকড়ি’—দুটি নতুন নাটক আনতে পেরে আনন্দিত অনুস্বরের প্রতিষ্ঠাতা। এটা দল ও দলের সদস্যদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন তিনি।










