গত বছর রায়হান রাফীর পরাণ সিনেমাটি হলে দর্শক ফিরিয়ে এনেছিল। এ বছরের শুরুতেও এ নির্মাতা ব্যস্ত ছিলেন তার আসন্ন সিনেমার জন্য। এর নাম ‘সুড়ঙ্গ’। সিনেমাটির মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ছোট পর্দার দাপুটে অভিনেতা আফরান নিশোর। তার বিপরীতে আছেন তমা মির্জা। ফেব্রুয়ারির শেষদিন আফরান নিশোর প্রথম সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’র মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর গত বুধবার রাতে সিনেমাটির প্রথম লুক প্রকাশ পেল। অন্ধকার রাতে মেঘের গর্জনের মধ্যে হেঁটে আসছেন একজন মানুষ। আলো স্পষ্ট হতেই ভিন্নভাবে দেখা যায় আফরান নিশোকে। একটু পরই কোনোকিছুর সন্ধানে তিনি চলে যান একটি সুড়ঙ্গের ভেতর। সব মিলিয়ে ১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের এ লুক এরই মধ্যে দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছে।
সুড়ঙ্গ সিনেমা নিয়ে কথা হয় রায়হান রাফীর সঙ্গে। রাফী বলেন, ‘আমাদের সিনেমার শুটিং শেষ। এখন চলছে পোস্ট প্রডাকশনের কাজ। ইনশাল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি সিনেমাটার ট্রেলার, পোস্টার ও গান রিলিজ দেব। আমাদের ইচ্ছা আছে কোরবানির ঈদে সুড়ঙ্গ মুক্তি দেয়ার। আমার কাছে মনে হয়েছে, গত বছর পরাণ সিনেমাটি যারা ব্লকবাস্টার করেছে, তারাই আমার এ সুড়ঙ্গ দেখবে। যারা ভালোবাসা নিয়ে পরাণ দেখেছেন, সে দর্শকদের আরো ভালো কিছু উপহার দিতে চাই। এ চেষ্টা থেকেই সুড়ঙ্গের নির্মাণ। বাকিটা দর্শক বিচার করবে। আমি বিশ্বাস করি, সিনেমাটা দর্শকের ভালো লাগবে।’
সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, ‘আমরা সিলেট ও চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে সিনেমাটার শুটিং করেছি। সুড়ঙ্গের ফার্স্ট লুক দেখলেই দর্শক বুঝবে আমাদের জন্য শুটিং করাটা কতটা কঠিন ছিল। এ রকম আইডিয়া নিয়ে সাধারণত সিনেমা হয় না। মাটির নিচে অনেকটা জায়গাজুড়ে আমাদের সুড়ঙ্গ করতে হয়েছে। এর মধ্যে শুটিং করাটা সবার জন্যই কঠিন ছিল।’
সুড়ঙ্গ সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, ‘একটি সুড়ঙ্গ নিয়ে এ সিনেমা। তবে এর সঙ্গে আছে প্রেম, ভালোবাসা ও দুঃখ। আমার কমার্শিয়াল সিনেমায় যা থাকে, তার সবটাই আছে এটায়। একটা ভিন্ন ধারার গল্প রয়েছে এ সিনেমায় যেটা আগে আমরা দেখিনি। দর্শক নতুন একটা ইমোশন পাবে সুড়ঙ্গ সিনেমাটির মধ্য দিয়ে।’
এ সিনেমার ফার্স্ট লুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন আফরান নিশো। জানিয়েছেন, ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে আসতে যাচ্ছে তার প্রথম সিনেমা। সুড়ঙ্গ প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, ‘অবশ্যই অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছে। এটা আমার প্রথম সিনেমা। সুনামগঞ্জের দুর্গম এলাকায় সবাই মিলে প্রায় ১০ দিন শুট করেছি। সবার থাকা-খাওয়ার খুব কষ্ট ছিল। প্রত্যেকের অনেক পরিশ্রম হলেও ভিজ্যুয়ালি বা পারফরম্যান্সে দর্শক উপভোগ্য, রুচিশীল ও মার্জিত কিছু দেখতে পাবে।’
নিজের চরিত্রের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিশো বলেন, ‘পরিচালক রাফীর সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। আমি সবসময় চেষ্টা করি, পরিচালকের সঙ্গে আরাম করে কাজ করতে। এজন্য আমরা অনেক আলোচনা করে জেনে-বুঝে কাজটা করেছি। আমরা যে পরিশ্রম করছি, সেটা দর্শক কাজে দেখতে পাবে।’
বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তমা মির্জা। ওটিটির মাধ্যমে একাধিক কনটেন্টে অভিনয় করে আলোচিত এ অভিনেত্রী। সুড়ঙ্গের শুটিং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর আমি এ রকম কষ্ট করে শুটিং করেছি। শুধু আমি নই, পুরো টিম শুটিংটা করতে গিয়ে অনেক শ্রম দিয়েছে। তার পরও শান্তির জায়গা একটাই, আমরা যতটুকু শুট করেছি, তাতে কোনো কম্প্রোমাইজ করিনি।’
নিশোর সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে তমা বলেন, ‘এ সিনেমায় আমার চরিত্রটা একটু ট্রিকি। নিশো ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, আমার কাজটাকে সহজ করে দিয়েছেন।’
চরকি ও আলফা আই স্টুডিওর যৌথ প্রযোজনার এ সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছিল মার্চের প্রথম সপ্তাহে। সিলেটের সুনামগঞ্জের দুর্গম এলাকা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাসহ ঢাকার অনেক জায়গায়ই শুটিং হয়েছে সিনেমাটির।










