ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয়তা পায় রেকর্ড। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্টোর ডে উদযাপিত হয়। গতকাল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্টোর ডে। রাজধানীর ডেইলি স্টার আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী রেকর্ড প্রদর্শনীর। এ দিন সকাল ১০টায় প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী, বিশেষ অতিথি ছিলেন লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
এ আয়োজনে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ নেয়ার জন্য সাধুবাদ জানাই। এ সময়ে এটা দরকার ছিল।’ ফরিদা পারভীন বলেন, ‘একসময় প্রিয় শিল্পীর রেকর্ডিং শুনতাম, পরে সৌভাগ্য হয় নিজের রেকর্ড প্রকাশ করার। কিন্তু এ সময়ে এসে আমার সংগ্রহে প্রিয় রেকর্ডগুলো বেশির ভাগই নেই। এটা আমার জন্য দুর্ভাগ্য। ১৯৭৬ সালের দিকে অনেক ক্যাসেট কোম্পানি আমাদের শিল্পীদের গান নিয়ে কাজ করেছে। নতুন এ স্যাটেলাইট যুগে রেকর্ড ডে পালন সুন্দর একটি উদ্যোগ। আপনারা যারা কাজটি করেছেন, তাদের বলতে চাই এ উদ্যোগ যেন সঠিকভাবে মূল্যায়নের ধারা বজায় থাকে।’
সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিলের তৃতীয় শনিবার রেকর্ড স্টোর ডে উদযাপিত হয়। সে হিসেবে এ বছর দিবসটি উদযাপিত হয়েছে ২২ এপ্রিল। তবে ঈদুল ফিতর ও রমজানের কারণে এ বছর বাংলাদেশে উদযাপন কিছুটা দেরি হয়। ঠিক এক সপ্তাহ পিছিয়ে গতকাল রেকর্ড স্টোর ডে উদযাপন করা হয়েছে।
এ দিবসের ধারণা প্রথম আসে আমেরিকার বুল মুজ মিউজিকের মালিক ক্রিস ব্রাউন ও ক্রিমিনাল রেকর্ডসের মালিক এরিক লেভিনের থেকে। এজন্য তারা মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর সিটিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাইনাল রেকর্ড স্টোর মালিকদের নিয়ে একটি সভা করেছিলেন। এরপর রেকর্ড স্টোর ডে উপলক্ষে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মিলিত চেষ্টায় ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ষ্টোর ডে উদযাপিত হয়। ধীরে ধীরে দিবসটি সম্পর্কে সারা বিশ্বের রেকর্ড সংগ্রাহকরা জানতে পারেন। বর্তমানে দিবসটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ডিংয়ের ইতিহাস বহু পুরনো ও সেখানে ঔপনিবেশিক উদ্যোক্তাদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল। এখানে ব্রিটিশ গ্রামোফোন কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসা ১৯০৮ সালে শুরু হয় ও ১৯৭০ পর্যন্ত তা বজায় ছিল।










