১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এম শামসুল ইসলামের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিএমপির (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সিনেমা ‘দামপাড়া’। সিনেমার শুটিং ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আনন জামান এবং সিনেমাটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা শুদ্ধমান চৈতন। ছবিতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এম শামসুল ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করবেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ এবং তার স্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত মাহমুদা হক চৌধুরীর নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা।
সিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (পিআর) শাহাদত হুসেন রাসেল বণিক বার্তাকে জানান, প্রয়াত এম শামসুল হক ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। নিজ জীবন বাজি রেখে তিনি চট্টগ্রামের জনগণের সঙ্গে পুলিশকে এক করে জনযুদ্ধের সূচনা করেন। ২৮ মার্চের পর চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে। তবে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার এ স্মৃতিকে ধরে রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধে এ বীরের অবদান তুলে ধরতে সিএমপি এ সিনেমা নির্মাণ করছে।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম এলাকার সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেঙ্গল রেজিমেন্টের ২০০ বাঙালি সদস্য পুলিশ লাইনসে আশ্রয় নিলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও এসব বাঙালি সদস্যের হাতে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দেয়া হয়। ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ চট্টগ্রাম দামপাড়া পুলিশ লাইনসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। ২৯ মার্চ দিবাগত রাত ৪টায় পুলিশ লাইনসের দক্ষিণ-পূর্ব দিক এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একযোগে আক্রমণ করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারী মেশিনগান ও থ্রি ইঞ্চি মর্টার ব্যবহার করে। যুদ্ধরত পুলিশ সদস্যরা পাহাড়ের ঢালে ও ট্রেঞ্চে অবস্থান করায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম দিকে বিশেষ বেগ পেতে হয়। পরে ভোর ৬টার দিকে গোলাবারুদের অভাবে যুদ্ধরত পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে এবং পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ শাহাদতবরণ করে। সে সময় ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে। তার মরদেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দামপাড়া সিনেমার পরিচালক শুদ্ধমান চৈতন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। সিনেমাটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এখনকার অবস্থার মিল নেই। যার কারণে আমি সেই সময়কার অবস্থা সিনেমায় তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সিনেমাটিতে যারা অভিনয় করছেন তারা কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পী। তাদের চরিত্র বুঝিয়ে অভিনয় দক্ষতা সিনামাটিতে তুলে আনা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আশা করছি সিনেমাটি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অসাধারণ কাহিনী, কুশীলব, নির্মাণশৈলী ও অন্যান্য আঙ্গিকে নির্মিতব্য এ চলচ্চিত্র একজন সাহসী, অদম্য ও আত্মপ্রত্যয়ী দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তার মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষার্থে আত্মবিসর্জনের এক অনন্য আলেখ্য।’
সার্বিক প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন থেকেই চট্টগ্রামে পাকিস্তানিদের লক্ষ্যই ছিল পুলিশ সুপার শামসুল হককে হত্যা করা। নিজ জীবন বাজি রেখে তিনি চট্টগ্রামের জনগণের সঙ্গে পুলিশকে একাত্ম করে এক জনযুদ্ধের সূচনা করেন। ২৮ মার্চের পর চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে। অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। আমরা তার স্মৃতিস্বরূপ সিনেমাটি নির্মাণ করছি, যাতে চট্টগ্রাম তথা দেশের মানুষ তার বীরত্বের কথা জানতে পারে।










