লকডাউন শেষে গত অক্টোবরে খুলে যায় স্টার সিনেপ্লেক্স। বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র জগৎ পার করছে কঠিন সময়। এমন পরিস্থিতিতে খোলার পর থেকে কেমন চলছে সিনেপ্লেক্সগুলো জানতে সম্প্রতি যোগাযোগ করা হয় স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। টকিজের কাছে বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন তিনি।

কেমন চলছে স্টার সিনেপ্লেক্স?

সিনেপ্লেক্স খোলার পর হলিউড মুভি ‘ওয়ান্ডার উইমেন’ মুক্তি দেয়া হয়েছিল। আর বাংলা ছবির মধ্যে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। পরে ‘বিশ্বসুন্দরী’ মুক্তি দেয়া হয়। বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে এ দুটি ছিল নতুন কনটেন্ট। বর্তমানে সিনেপ্লেক্সগুলোতে পুরনো-নতুন মিলে কিছু ছবি চলছে।

‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ ও ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবি দুটিতে দর্শক সাড়া কেমন ছিল?

শুরুর দিকে খুব ভালো ছিল। দর্শকদের ভেতরে একটা ক্ষুধা ছিল। যেহেতু তারা অনেক দিন ধরে সিনেমা হলে যেতে পারেননি। চলচ্চিত্র দুটি ভালো চলেছে। আয়ও ভালো হয়েছে। ‘বিশ্বসুন্দরী’ আট সপ্তাহ ধরে চলছে। করোনাকালে ছবি দুটি বেশ সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছুদিন পর ব্যবসার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এরপর নতুন বছরের প্রথম দিন ‘মনস্টার হান্ট’ মুক্তি দেয়া হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় ‘মিসবিহেভিয়ার’। সত্যি বলতে এখন তেমন সাড়া পাচ্ছি না দর্শকদের। উপস্থিতি খুব ভালো নয়। মোটের ওপর ১০ শতাংশ বলা যায়।

কেবল কভিড পরিস্থিতির কারণেই কি এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন?

আমাদের আসলে কনটেন্ট নেই। কভিডকে তেমন ইস্যু মনে করা হচ্ছে না। সব সেক্টরই কিন্তু মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কনটেন্ট নেই, তাই দর্শকও নেই। এটাই মুখ্য বিষয়। নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছি। একটা ভালো কনটেন্ট যেমন ‘জেমস বন্ড’, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’—এ ধরনের ছবির কিছু দর্শক রয়েছে। সেই দর্শকরা যখন এসব ছবি দেখতে এসে টিকিট পান না, তখন তারা অন্য মুভির টিকিট কেটে দেখা শুরু করেন, যেহেতু তারা সিনেপ্লেক্সে এসেছেন। এগুলো এক ধরনের সুবিধা। ভালো কনটেন্ট এলে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানোর জন্য এখন ছবি মুক্তির প্রয়োজন। আর এ রকম চলছে বলে দেশব্যাপী আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার যে পরিকল্পনা, সেটাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মিরপুরে সিনেপ্লেক্সের একটি শাখা উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ কনটেন্ট নেই। সার্বিকভাবে অবস্থা খারাপ। টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আমরা নতুন ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছি। বাংলা, হলিউড—সব ধরনের মুভি। ব্যবসা ভালো হলে আমাদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়বে। কিন্তু সবকিছুই এখন থেমে আছে।