জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকী হয়ে গেল এ বছর। তার স্মরণে গতকাল ছায়ানটে আয়োজিত হলো নজরুল সন্ধ্যা। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের (আইজিসিসি) এ আয়োজনে পারফর্ম করেন ফাতেমা তুজ জোহরা, সামিনা হোসেন প্রেমা ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। ভরভরন্ত ছায়ানট অডিটোরিয়ামে নজরুল সন্ধ্যা উপভোগ করে দর্শক-শ্রোতারা। বিভিন্ন শ্রেণী, পেশার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল এ আয়োজনে। ছিলেন সংস্কৃতি অঙ্গন, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বিকাল থেকেই ছায়ানট অডিটোরিয়ামে দর্শক হাজির হচ্ছিল। আশ্বিনের আকাশে তখন ঘনঘোর মেঘ। বৃষ্টি পড়ছে টিপটিপ করে। যানজট পার করে, কাজ শেষ করে অনেকেই এসেছিল নজরুল সন্ধ্যায়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামকে জানতে প্রচুর পড়াশোনা প্রয়োজন। এ রকম একজন মহাপুরুষ শত বছরে একবার আসে। কাজী নজরুল ইসলাম একটা সেতুর মতো।’
কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদ, অসাম্প্রদায়িকতার কথা স্মরণ করেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী আরো বলেন, ‘কাজী নজরুল ইমলামকে সম্মান জানাতে হলে তার দেখানো পথে চলতে হবে।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এ বছরকে আমরা নজরুল বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি স্কুলে নজরুলসংগীত, কবিতা, চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি আয়োজিত হয়েছে। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমিরও আয়োজন থাকছে।’
বিদ্রোহী কবিতার চার লাইন আবৃত্তি করে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘নজরুল বিস্ময়কর এক প্রতিভা। রবীন্দ্রনাথের প্রভাব যখন বাংলা সাহিত্যে চলছিল সেই সময় নজরুল নিজের প্রতিভা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। কবিতা, গান, সাংবাদিকতা নানা দিকে তার প্রতিভার প্রমাণ আছে।’
ফাতেমা তুজ জোহরার নজরুলসংগীত দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‘সন্ধ্যা গোধূলি’ দিয়ে গান শুরু করেন তিনি। এরপর ‘প্রথম মনের মুকুল’, ‘বনফুল’, ‘আজকে যে রাজাধিরাজ’, ‘শিউলি তলায় ভোরবেলায়’, ‘মহাকালের কোলে’, ‘বিশ্ব দুলারী নবী নন্দিনী’, ‘দূরদ্বীপবাসিনী’, ‘আমার সাঁঝ গগনে’।
এরপর সামিনা হোসেন প্রেমা ও তার দল ‘ভাবনা’ নৃত্য পরিবেশন করে।৷ নৃত্যের সঙ্গে কবিতা আবৃত্তি করেন অভিনেতা ও আবৃত্তিকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।










