যারা ভিন্ন ধারার সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে ‘হাওয়া’। শিগগিরই মুক্তি পেতে চলেছে মেজবাউর রহমান সুমন নির্মিত সিনেমা হাওয়া। সিনেমাটির শুটিং তিন বছর আগে শেষ হলেও এ নিয়ে নীরব ছিলেন সিনেমা-সংশ্লিষ্টরা। অবশেষে দর্শকদের কৌতূহল মিটল। এপ্রিলের প্রথম দিন প্রকাশিত হয়েছে ছবিটির অফিশিয়াল পোস্টার। সিনেমার প্রায় সব কলাকুশলীর দেখা মিলেছে পোস্টারে। হাওয়ায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুশি, সুমন আনোয়ার, শরিফুল রাজসহ আরো অনেকে।

‘হাওয়া’ সিনেমার অন্যতম চরিত্র চঞ্চল চৌধুরী কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। দেশের জনপ্রিয় এ অভিনেতা বলেন, ‘হাওয়ায় আমি মাছ ধরার ট্রলারের মাঝি। সিনেমাটির শুটিং করা হয়েছে সেন্ট মার্টিনে। একদম মাঝ সমুদ্রে গিয়ে আমরা শুটিং করেছি। এতে আমাদের সময় লেগেছে ৫০ দিনের মতো।’ সিনেমাটির গল্প নিয়ে জানতে চাইলে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘একটা মাছ ধরার ট্রলার এবং কয়েকজন মাঝির জীবনের সংগ্রাম নিয়ে সিনেমাটির গল্প। আমরা বেশ কষ্ট করে সিনেমাটির শুটিং করেছি। ২০১৯ সালের দিকে বুলবুল ঝড় আঘাত হনে। সে সময় আমরা সেন্ট মার্টিনে কাজ করছিলাম। আমরা সবাই বুলবুল ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম। মাঝ সমুদ্রে গিয়ে কাজ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সমুদ্রের বিশাল বেপরোয়া উত্তাল ঢেউয়ে আমরা কাজ করেছি। আমরা এত কষ্ট করে কাজ করেছি শুধু দর্শকের জন্য। এর আগে দর্শক এ রকম কাজ দেখেনি। সমুদ্রপাড়ের জেলেদের জীবনের গল্প নিয়ে অনেকেই কাজ করেছেন। তবে মাঝ সমুদ্রে একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে এটাই প্রথম কোনো কাজ। দর্শক সিনেমা হলে এলেই বুঝতে পারবে সিনেমাটিতে আসলে কী দেখানো হয়েছে। সেটা এখন না বলি।’

বাংলা সিনেমায় নতুন আলোড়ন তৈরি করতে যাচ্ছে ‘হাওয়া’—এমনটাই ভাবছেন সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। সিনেমা সমালোচকদের অনেকেই মনে করছেন, করোনাকালীন আবহ কাটিয়ে প্রেক্ষাগৃহে নতুন হাওয়া দেবে আসন্ন সিনেমাটি।

নির্মাণ সংস্থা ফেসকার্ড প্রডাকশন ও প্রযোজনা সংস্থা সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের ব্যানারে আসছে হাওয়া। মেজবাউর রহমান সুমনের কাহিনী এবং সংলাপে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জাহিন ফারুক আমিন, সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও মেজবাউর রহমান সুমন। চিত্রগ্রহণ করেছেন কামরুল হাসান খসরু এবং সম্পাদনা করেছেন সজল অলক। আবহ সংগীতে রাশিদ শরীফ শোয়েব এবং গান বানিয়েছেন ইমন চৌধুরী। প্রকাশিত পোস্টারটি ডিজাইন করেছেন সব্যসাচী মিস্ত্রী।

সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ওটিটি প্লাটফর্মগুলো। তবে এর পরও সিনেমা হলের আবেদন সবসময় আলাদা। সমুদ্রপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করেছে দর্শক বহুবার। তবে এ সিনেমা মাটির গল্প নয়, বরং পানি ও সমুদ্রের গল্প দেখানো হয়েছে এতে। ২০১৯ সালের শেষের দিকে হাওয়া সিনেমাটির শুটিং হয়। তবে ২০২০ সালের শুরুতেই কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সিনেমাটি নিয়ে নীরবতা পালন করেন নির্মাতা। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘হাওয়া’র কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। করোনাভাইরাসের কারণে সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে যায়। তবে ‘হওয়া’র প্রেক্ষাগৃহে আগমন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।