কভিডকালে শিল্পীদের অভিজ্ঞতা কেমন? শিল্পীদের নিজেদের অবস্থান, তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্পর্কই বা কেমন হতে পারে—এ বিষয়গুলো বোঝার প্রচেষ্টা থেকে গোথে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ‘ফিউচারস বিয়ন্ড দ্য সেলফ ২০২০’ প্রকল্পের আয়োজন করেছিল। এ প্রকল্পের ডাকে সাড়া দিয়ে ৮০ জনের মতো এতে অংশ নিয়েছিল। সেখান থেকে বিচারকরা ১১টি প্রকল্প নির্বাচন করেন। এ ১১টি প্রকল্প নিয়ে গোথে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ও কলাকেন্দ্রের সমন্বয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় কলাকেন্দ্র আর্ট গ্যালারিতে ‘ফিউচার বিয়ন্ড দ্য সেলফ’ প্রদর্শনীর ঘরোয়া উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি ছিলেন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। আরো উপস্থিত ছিলেন জুরি বোর্ডের সদস্য ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের অনেকে।

প্রদর্শনীর বিস্তারিত নিয়ে টকিজের সঙ্গে কথা বলেছেন শিল্পী ও কলাকেন্দ্রের কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কভিডের পিক টাইমে গোথে ইনস্টিটিউট মাল্টিডিসিপ্লিনারি ওপেন কলের আয়োজন করেছিল। কভিডের সময়ে শিল্পীদের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্পর্কটা কেমন হতে পারে, আমরা শিল্পীরা কী ভাবছি—এসব ভাবনাকে কেন্দ্র করে এ রকম একটি আয়োজন করা হয়। কভিড পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে এলে গোথে ইনস্টিটিউট চিন্তা করে ফিজিক্যাল রিপ্রেজেন্টেশনের একটি প্রদর্শনী করার, যেখানে শিল্পরসিকরা সশরীরে প্রজেক্টগুলোর ভিজুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন উপভোগ করতে পারবেন। সে ধারাবাহিকতায় গতকাল মাল্টিডিসিপ্লিনারি আর্টওয়ার্ক প্রদর্শনীটির ঘরোয়া উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।’

কভিড পরিস্থিতির কারণে গোথে ইনস্টিটিউট চায়নি খুব বড় করে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হোক। এ কারণে ঘরোয়া পরিবেশে উদ্বোধন হয়। আজ থেকে শিল্পরসিক দর্শকদের জন্য এক মাস এ প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে বলে জানালেন ওয়াকিলুর রহমান।

‘ফিউচার বিয়ন্ড দ্য সেলফ’ প্রদর্শনীতে শিল্পের বিভিন্ন শাখার ১১টি প্রকল্প স্থান পেয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি গবেষণা, দুটি শর্ট ফিল্ম, একটি মিউজিক, চারটি ভিজুয়াল আর্ট, একটি ফটোগ্রাফি প্রকল্প ও একটি পারফরম্যান্স আর্ট প্রকল্প রয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীরা হলেন প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী (গবেষণা), আরিফুর রহমান (শর্ট ফিল্ম), কারখানা কালেক্টিভ (মিউজিক), মুর্শেদ জাহাঙ্গীর (ভিজুয়াল আর্ট), পার্সা সানজানা সাজিদ (গবেষণা), ইমরান সোহেল (ভিজুয়াল আর্ট), সামছুল আলম হেলাল (ফটোগ্রাফি), সুমনা আকতার (ভিজুয়াল আর্ট), শাহলা ইসলাম (শর্ট ফিল্ম), তাহিয়া ফারহিন হক (ভিজুয়াল আর্ট) ও তেহাই ইন্টারডিসিপ্লিনারি আর্ট ইনিশিয়েটিভ (পারফরম্যান্স আর্ট)।

প্রকল্পগুলো নির্বাচনে জুরি বোর্ডে ছিলেন ভিজুয়াল আর্টিস্ট ও বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের ট্রাস্টি তৈয়বা বেগম লিপি, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের (আরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, বেঙ্গল আর্টস প্রোগ্রাম, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব, শিল্পী ও কলাকেন্দ্রের কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান। তাদের সঙ্গে আরো ছিলেন গোথে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ড. ক্রিস্টেন হ্যাকেনব্রক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কে. মো. মাহমুদ হাসান।

গ্যালারি কলাকেন্দ্রে প্রতিটি প্রকল্পের ভিজুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন হবে। গ্যালারিতে পুরো শর্ট ফিল্ম দেখানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকিলুর রহমান জানালেন, ‘ফিল্মের প্রডাকশন প্রক্রিয়াটা বেশ দীর্ঘ। তো শর্ট ফিল্ম প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে ফিল্ম প্রডাকশন প্রসেসের কিছু ডকুমেন্টারি দেখানো হবে। পুরো ছবি সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত দেয়া আর কি। এ ডকুমেন্টারিগুলো নির্মাতারাই তৈরি করেছেন।’ মিউজিকের ক্ষেত্রেও সাউন্ডের পাশাপাশি ভিজুয়াল এলিমেন্ট প্রদর্শিত হবে। কলাকেন্দ্রে আয়োজিত প্রদর্শনীটি আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।