হলিউডের জনপ্রিয় সিরিজ গেম অব থ্রোনস। এতে ডেনেরিস টারগারিয়েনের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন এমিলিয়া ক্লার্ক...

তবে সিরিজটি ছাড়াও বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। গেম অব থ্রোনসে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত চরিত্রের এক রানী। নানা বিরুদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছেন তিনি। বাস্তব জীবনেও আছে লড়াই। মাত্র ২২ বছর বয়সে তাকে লড়তে হয়েছিল আরো ভয়ংকর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। দুবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল তার। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন এমিলিয়া। সে কথা স্মরণ করেই সম্প্রতি তিনি বললেন কেবল বেঁচে যাওয়াই নয়, সুস্থ হয়ে ওঠাও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ভ্যারাইটি পাওয়ার অব উইমেন, লন্ডন অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়ে এ কথা বলেন।

ক্লার্ক জানান, প্রথম মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শিকার হন ২২ বছর বয়সে। দুই বছর পর ২৪ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো তাকে একই বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। ওই সময়ই তিনি গেম অব থ্রোনসের প্রথম দিকের কাজ করছিলেন। ব্রডওয়েতেও অভিষেক হয়েছিল। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই এ কাজগুলো করছিলেন তিনি।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এমিলিয়া বলেন, ‘অনেক বছর ধরে মনে হতো আমি যেন মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে বেঁচে আছি, আর মৃত্যু আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।’

এমন কথা বলার কারণ আছে। বাইরে থেকে দেখে স্বাভাবিক মনে হলেও এমিলিয়ার নিজের সংগ্রাম চলছিল। তিনি কর্মক্ষম ছিলেন, ফলে সবাই ধরে নিয়েছিল তিনি পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। হরমোনজনিত সমস্যা, চরম ক্লান্তি, উদ্বেগ, শরীরজুড়ে ব্যথা কিংবা দীর্ঘ শুটিংয়ের পর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণকে তিনি বছরের পর বছর স্ট্রেস ও অতিরিক্ত কাজের চাপ বলে মনে করেছিলেন। চিকিৎসকরাও তখন বিষয়টা ধরতে পারেননি। আজ তিনি বুঝতে পারেন, এগুলো ছিল মস্তিষ্কে আঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

ক্লার্কের মতে, ব্রেন ইনজুরির ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যবস্থা মূলত রোগীর জীবন বাঁচানোর ওপর জোর দেয়। অস্ত্রোপচার হয়, রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়, রোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এরপর যে দীর্ঘ মানসিক, আবেগিক, ভাষাগত ও শারীরিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়, সেটি প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়।

এ অভিজ্ঞতা থেকেই ২০১৯ সালে তার মা জেনির সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সেম ইউ’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো ব্রেন ইনজুরি ও স্ট্রোক থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানো।

নিজের গল্প প্রকাশ করার পর হাজার হাজার মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিশেষ করে তরুণদের কাছ থেকে আসা বার্তাগুলো তাকে নাড়া দেয়। অনেকেই জানিয়েছেন, জীবন বাঁচলেও পুনরুদ্ধারের পথে তারা নিজেদের সম্পূর্ণ একা অনুভব করেন। ক্লার্কের ভাষায়, ‘সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রা যেন একটি খাদের কিনারা থেকে পড়ে যাওয়ার মতো, যেখানে ধরার জন্য কেউ নেই।’

ক্লার্ক স্পষ্ট করে জানান, মস্তিষ্কে আঘাতের বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। চিকিৎসার পরবর্তী সময়ে আরো বেশি যত্ন প্রয়োজন।

সূত্র: ভ্যারাইটি