এবার তার বায়োপিক নির্মাণ করলেন কৃষ্ণকুমার রামকুমার। ভার্গিস মুলান পিকচার্স ও মাধবনের ট্রাইকালার ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘জিডিএন’ ৭ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। সিনেমায় জিডি নাইড়ু চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর. মাধবন। শুটিং ফ্লোরে পা রাখার আগেই সিনেমাটিকে যেন নিজের ভেতরে তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। পুরো সিনেমার গল্প নিয়ে একটি ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের অডিওবুক তৈরি করেছিলেন। প্রতিটি সংলাপ নিজেই বলেছেন, সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন আবহসংগীত ও সাউন্ড ইফেক্ট।
শুধু তাই নয়, জিডি নাইডুর চলাফেরা বোঝার জন্য তিনি কয়েক দশক পুরনো ১৬ মিমি ফুটেজ বারবার দেখেছেন। এমনকি চরিত্রটির মতো করে প্যান্ট পরার ধরনও হুবহু পুনর্নির্মাণে কস্টিউম বিভাগের সঙ্গে কাজ করেছেন। নিজের সংলাপ নয়, পুরো চিত্রনাট্যের প্রতিটি দৃশ্য ও সংলাপই মুখস্থ করেছিলেন তিনি।
পরিচালক জানান, সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর মাধবনের প্রস্তুতি ছিল তাদের দেখা অন্য যেকোনো অভিনেতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুটিং শুরুর আগেই তিনি পুরো ছবির একটি পডকাস্টধর্মী অডিও সংস্করণ তৈরি করেছিলেন। সেখানে সংলাপ, সংগীত ও সাউন্ড ইফেক্ট সবই ছিল।
রামাকুমার বলেন, ‘প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের এ অডিওবুকে পুরো সিনেমাটাই শোনা যায়। সব সংলাপ বলা হয়েছে, দৃশ্যের বর্ণনা রয়েছে, সংগীত ও সাউন্ড ইফেক্টও যোগ করা হয়েছে। শুনতে শুনতে মনে হবে যেন পুরো সিনেমাটাই চলছে।’

মাধবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল চিত্রনাট্যের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। পরিচালক বলেন, ‘কেউ যদি পুরো চিত্রনাট্য, প্রতিটি সংলাপ ও প্রতিটি দৃশ্য মনে রাখতে পারেন, তাহলে তিনি প্রযোজক হিসেবেও সিনেমাটির প্রতি সুবিচার করতে পারবেন। কিন্তু এমন একজন প্রধান অভিনেতা পাওয়া, যিনি পুরো স্ক্রিপ্টের প্রতিটি অংশ জানেন এবং এতটা নিবেদিত; এটা আমার জন্য বিরাট ব্যাপার।’
চরিত্রে শারীরিক রূপান্তরের ক্ষেত্রেও মাধবনের প্রস্তুতি ছিল অসাধারণ। দলটি জানায়, তিনি জিডি নাইডুর একমাত্র সংরক্ষিত ১৬ মিমি ভিডিও ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। সেগুলো আধুনিক ক্যামেরার তুলনায় ভিন্ন ফ্রেম রেটে ধারণ করা হয়েছিল।
রামকুমার বলেন, ‘জিডি নাইডুর ওই পুরনো ভিডিওগুলোই আমাদের একমাত্র ভরসা। মাধবন আমাকে বলেছিল, ‘‘আমি যখন জিডি নাইডু হয়ে ফিরব, তখন শুধু মাথা নাড়িয়ে অভিনয় করব না। তার শরীরের যে বিশেষ ভঙ্গি ছিল, সেটাও তুলে ধরতে হবে।’’ সে শরীরী ভাষার দিক থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছিল। তারপর বলল, ‘‘কৃষ্ণ, তুমি শুধু দেখো আমি কী করি।’’ পরে যখন সে অভিনয় করল, সেটা অবিকল জিডি নাইডুর মতোই লাগছিল।’
এ সূক্ষ্ম মনোযোগ পোশাকেও দেখা যায়। পুরনো ছবিতে জিডি নাইডু কীভাবে প্যান্ট পরতেন, তা লক্ষ্য করেছিলেন মাধবন। এরপর কস্টিউম বিভাগের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে ধরনটি হুবহু পুনর্নির্মাণ করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি। রামাকুমার জানান, শুরুতে মাধবন জিডি নাইডুর জীবনের যত বেশি সম্ভব ঘটনা ছবিতে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাধবন গল্পের স্বাভাবিক প্রবাহকে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










