গতকাল প্রকাশ
হলো খন্দকার সুমন পরিচালিত, গণঅর্থায়নে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’-এর ট্রেলার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনের
চিত্রায়ণের প্রয়াসেই নির্মিত হয়েছে এ সিনেমা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংগ্রাম আর হাসি-আনন্দের
মুহূর্তগুলো সাবলীলভাবেই ফুটে উঠেছে ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ট্রেলারটিতে। সাঁতাওয়ের মূল
চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল, ফজলুল হক। নতুন খবর হলো এরই মাঝে ‘ইন্টারন্যাশনাল
ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’র
৫৩তম আসরে মনোনীত হয়েছে খন্দকার সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সাঁতাও’। এ উপলক্ষে আগামী ২০-২৮ নভেম্বর ভারতের
গোয়া শহরে উৎসবের ‘সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড’
বিভাগে প্রদর্শিত হবে এ সিনেমা। আর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী
২৭ জানুয়ারি। কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সার্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় আবর্তিত হয়েছে সাঁতাওয়ের কাহিনী।
সিনেমাটি
নিয়ে পরিচালকের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে,
এ নিয়ে অনুভূতিটি স্তিমিত হয়ে গিয়েছে বলা যায়। ২০১৮ সালে কাজ শুরু করি, আর ১৯ সালের
২ ফেব্রুয়ারি শুটিং করা হয়। দুঃখের বিষয় ২০২০ সালে নভেল করোনাভাইরাস দেখা দেয়ায় সিনেমার
মুক্তি থেমে যায়। চার বছরে অনুভূতিশূন্য হয়ে গিয়েছি। ট্রেলার প্রকাশ হলো মানে হচ্ছে
বুকের ওপর থেকে যেন এক টুকরো পাথর নেমে গেল। পুরো পাথরটা সরে যাবে ২০২৩ সালের
২৭ জানুয়ারি সাঁতাও মুক্তির পর।’
ইন্টারন্যাশনাল
ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ার বিষয়ে খন্দকার সুমন বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অবশ্যই
আনন্দের। ওদের পক্ষ থেকে আমাদের ইনভাইটেশন পাঠানো হয়েছে। এখন আমরা ভিসা প্রক্রিয়ায়
আছি। আমাদের পক্ষ থেকে সাঁতাওয়ের প্রেসকিট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রেসকিট হচ্ছে সিনেমার
ছবি, পোস্টার ও ট্রেলার।’
লালমনিরহাটের
তিস্তা বাজার এলাকায় সুমনের বেড়ে ওঠা। তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ অঞ্চলের মানুষগুলো।
‘সাঁতাও একটি রংপুরি শব্দ। সাঁতাওয়ের প্রচলিত অর্থ মূলত সাতদিন ধরে বৃষ্টি। সিনেমার
গল্প নিয়ে জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘আমাদের জীবনে এমন কিছু স্মৃতি আছে, যেটা আমরা নানাভাবে
প্রকাশ করি। আমার যে স্মৃতি আছে, সেটা আমি এ সিনেমার মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি।
আমার মনে হয় সিনেমা মানে আমার ব্যক্তিত্ব।’
নির্মাতা
খন্দকার সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা সাঁতাও গণঅর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে। এর কারণ
হিসেবে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রকে বলা হয় সব আর্টের সমন্বয়। এটা একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। আমরা
যখন ঠিক করলাম এ সিনেমার কাজ শুরু করব, তখন বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারকের কাছে যেতে
হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে অর্থলগ্নিকারক নির্ধারণ করে দেয় পণ্য কেমন হবে। তাই
আমি অর্থলগ্নিকারক থেকে সরে এসেছি। কারণ তাদের নির্ধারণ করে দেয়া যে গল্প দেখাতে হবে,
সেটা আমার গল্প নয়। তখন ওই সিনেমা আর আমার থাকবে না। সে মুহূর্তেই আমরা ভাবলাম যে স্বাধীনভাবে
সিনেমাটা নির্মাণ করব। যেখানে অনেক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে অথচ এ প্রক্রিয়ায় তারা সিনেমায়
কোনো আধিপত্যও বিস্তার করতে পারবেন না। এটা আসলে গণমানুষের চলচ্চিত্র যেখানে কেবল অর্থ
নয়, তাদের অংশগ্রহণও জরুরি। আর সাঁতাও গণমানুষের চলচ্চিত্র হয়ে উঠল কিনা সেটা দর্শক
দেখতে পারবে।’
সাঁতাও নিয়ে
অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল সেন্টু বলেন, ‘প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার যে অনুভূতি আর আনন্দ,
আমিও সাঁতাও নিয়ে এমন আনন্দঘন অনুভূতিতে আছি। এ সিনেমায় আমি অডিশনের মাধ্যমে যাই। ক্যামেরার
ভয় আমাকে কাবু করতে পারে না। আমার কাছে মনে হয় নিজের জীবনটাকেই আমি প্রকাশ করছি। সাঁতাও
আমার জন্য খুব ভালো অভিজ্ঞতার জায়গা। আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি এখান থেকে।’
এ সিনেমায়
নিজের চরিত্র নিয়ে সেন্টু বলেন, ‘এতে অল্প কিছু সংলাপ ছিল আমার। পরে দেখা গেল ওই
সংলাপের দৃশ্যটাই সিনেমায় নেই। গ্রামে কিছু মানুষ থাকে, যে সবার আগে কোনো খবর সবাইকে
জানিয়ে দেয়। সাঁতাওয়ে এমনই একটা চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে।’
সাঁতাওয়ের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, শ্রাবণী দাস রিমি, তাসমিতা শিমু, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, মিতু সরকার, ফারুক শিয়ার চিনু, আফ্রিনা বুলবুল, রুবল লোদী, কামরুজ্জামানসহ আরো অনেকে। এছাড়া তিস্তাবাজার এলাকাবাসীদের দেখা যাবে এ সিনেমায়।










