বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ সব ভুলে সবাই যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় দিনটিতে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয় বছরের প্রথম দিন। রমনার বটমূলে থাকে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব। রঙ-বেরঙের পোশাকে বৈশাখ বরণে ঢল নামে হাজারো তরুণ-তরুণীর। কিন্তু এবারের বৈশাখ যেন একটু ব্যতিক্রম। চিরায়ত বর্ষবরণের দৃশ্য এবার চোখে পড়বে না। কভিড-১৯ যেন কেড়ে নিয়েছে বৈশাখের সবটুকু রঙ। এ দিনটিকে ঘিরে তারকাদের থাকে নানান পরিকল্পনা। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস থামিয়ে দিয়েছে সবকিছু। ঘরবন্দি হয়ে আছেন শোবিজের তারকারা। ঘরে বসেই বছরের প্রথম দিন উদযাপন নিয়ে কে কী ভাবছেন, তারকাদের মুখ থেকেই তা শোনা যাক— 

 বিদ্যা সিনহা মিম

স্থিতিশীল পরিবেশ থাকলে বছরের প্রথম দিন উদযাপন অন্যরকম হতো। সকালবেলা তৈরি হয়ে বের হতাম। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান থাকত। এবার খুব সাধারণভাবেই দিনটি কাটবে। আর দশটা দিনের মতোই। পরিবারের সঙ্গে আছি। পহেলা বৈশাখ মানে তো পান্তা ভাত ও ইলিশ। এগুলো বাসাতেই করা হতো। এবারো হয়তো হবে। কখনো আমিও স্পেশাল কিছু রান্না করি, নইলে মা করে। দেখা যাক এবার কী হয়। এ রকম একটা অবস্থা আসবে, তা আমরা কেউই জানতাম না। সবাইকে বলব, আপাতত কয়েকটা দিন বাসায় অবস্থান করুন। একটা উৎসব করতে পারছি না তো কী হয়েছে, সামনে আরো অনেক উৎসব করব! তার আগে আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। আর সবাইকে বলব, যার যেমন সামর্থ্য আছে, আশপাশের মানুষদের সাহায্য করুন। দোয়া করি সবাই যেন সুস্থ থাকে। আর এ সমস্যা যেন দ্রুত কেটে যায়।

 

নওশাবা আহমেদ

প্রতি বছর এ দিনে সাজগোজ করে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হতাম, তারপর ৫০-৬০ জন পথশিশুকে খাওয়াতাম। একটি করে গাছ লাগাতাম। সাধারণত এভাবেই প্রতি বছর বৈশাখ উদযাপন করা হতো। কিন্তু এবারের অবস্থা অন্যরকম। বাইরে বের হওয়া যাবে না। তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই মেয়েকে বুঝিয়েছি, এবার আর আগের মতো আমরা বৈশাখ উদযাপন করব না। তবে মেয়েকে সাজিয়ে-গুছিয়ে দেব। পাপেট নিয়ে মা-মেয়ে সারাটা দিন খেলা করব। এবার পথশিশুদের খাওয়াতে না পারলেও গাছ অবশ্যই লাগাব। বছরের প্রথম দিনে আমার প্রত্যাশা থাকবে, আমরা সবাই যেন একটু মানবিক হই।


 

জিনাত শানু স্বাগতা

নববর্ষ উপলক্ষে আজ আমরা একটি গান রিলিজ করব। গানটি তিন ভাই-বোন (স্বাগতা, সভ্যতা, সন্ধি) মিলে গেয়েছি। তিনজনের গাওয়া প্রথম গান এটি। নিজ নিজ বাসা থেকে অনলাইনে করেছি। কাভার সং। আসলে এমন অবস্থা আগে হয়নি। সবাইকে আনন্দ দিতে ও অনুপ্রাণিত করতেই গানটা করেছি। এছাড়া একটা ছোট ইলিশ কিনেছি। ওটা দিয়েই বৈশাখ উদযাপন করব, রান্নাবান্না করব। এর পাশাপাশি একটু সাজগোজ করা। আসলে আজ গান রিলিজ হবে তাই, গতকালই সাজগোজ করে ভিডিও করে ফেলেছি। 

 

নিরব হোসেন

সচরাচর দিনটিতে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। এবারের যা পরিস্থিতি তাতে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। সাজগোজ করে কেবল এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়া যেতে পারে। দেশের এ অবস্থায় কোনো কিছু উদযাপনের মানসিকতাও কাজ করবে না। অনেক দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে আছি। আমাদের আরো বেশ কিছুদিন ঘরে থাকতে হবে। হয়তো এ পুরো মাসটাই। সময়টা যাতে ভালো কাটে, তাই যতটুকু সময় আছে তাদের সঙ্গে সেটা উপভোগ করা দরকার। একটা দিবস পেয়েছি, ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে যতটুকু উদযাপন করা যায়, তা করব।


 

 

আনিসুর রহমান মিলন

নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবার দেশে বর্ষবরণ আয়োজন হচ্ছে না। দেশে এখনকার যে পরিস্থিতি; সার্বিক দিক মিলিয়ে খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। আগে তো জীবন, তারপর না সংস্কৃতিচর্চা। আমি যদি ভুল না করে থাকি ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর বর্ষবরণের আয়োজন করে। এ প্রথম রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। এটা একদিক থেকে কষ্টের। এটি তো আমাদের ঐতিহ্য। আরেক দিক থেকে আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হবে। এ পরিস্থিতিতে তো আর ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। ঘরেই কাটবে পহেলা বৈশাখ। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে যেভাবে দিনগুলো কাটছে; এ দিনটিতেও মনে হয় না, তার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু ঘটবে। পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাব।


 

জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি

সাধারণত পহেলা বৈশাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কাটানো হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দিনটি পার করতাম। কিন্তু এবার তো বাইরে বের হওয়ারই কোনো সুযোগ নেই। প্রায় ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বাসায় রয়েছি। এমনকি ছাদে যেতেও ইদানীং ভয় পাচ্ছি। কারণ বাতাসেও নাকি কভিড-১৯ থাকে। দিনটিকে ঘিরে সে রকম পরিকল্পনা নেই। তবে মন ভালো থাকলে বৈশাখের সাজগোজ করব। কিছু ছবি তোলা হবে।


 

নাজিয়া হক অর্ষা

প্রতি বছর বৈশাখটা ভিন্নভাবে পালন করা হতো। এবার অন্যরকম পরিস্থিতি। বাজার করা আছে। বৈশাখের এ দিনে ইলিশ রান্না করা হবে। কিছু পিঠা বানানো আছে। এর পাশাপাশি ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে। তবে মন খারাপের জায়গা রয়েছে। দিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, লকডাউনের সময় বেড়ে যাচ্ছে। সবসময় আতঙ্ক কাজ করে। একটি নতুন বছর শুরু হলো। বৈশাখে সব খারাপ কেটে যাক। সবার বৈশাখ যেন ভালো হয় সেই প্রত্যাশা।