চৈত্রের তপ্ত রোদে দিনভর গরম থাকলেও রাতে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার এ বৈরী আচরণের প্রভাব বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তথ্য বলছে, হাসপাতালের ৩৬ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৮৪ জন রোগী। ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকায় একই বেডে একাধিক শিশুকে রাখতে হচ্ছে। কেউ কেউ মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে। দিনে গরম থাকলেও শেষ রাতে ঠাণ্ডার প্রভাব এখনো রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেও জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছিল অনেকে। সে সময় হাসপাতালে ৯৪টি শিশু ভর্তি ছিল।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সদর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৬টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ৮৪টি শিশু ভর্তি রয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ঋতু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের রোগীর চাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। আমরা অতিরিক্ত রোগীদেরও সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন।’

রোগীর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সংকটও দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনরা বলছেন, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনেই তাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এক শিশু রোগীর বাবা রুবেল শেখ বলেন, ‘দুদিন ধরে আমার সন্তানের জ্বর ও কাশি। রাতে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তাই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে রোগীর অনেক ভিড়, শয্যায় পাচ্ছি না ঠিকমতো।’

রোগে আক্রান্ত এক শিশুর মা রহিমা বেগম বলেন, ‘দিনে গরমে ঘাম ঝরছে, আবার রাতে হালকা শীত লাগছে। এ কারণে শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু এত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

মো. শহিদুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক জানান, এক বেডে দুই-তিনজন রোগী রাখতে হচ্ছে। তার পরও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে, এটাই বড় কথা।’

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সূর্য আকাশের মাঝ বরাবর থাকায় দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা রয়েছে। তবে বাতাসের আর্দ্রতা কম হওয়ায় গরম স্থায়ী হচ্ছে না। এজন্য রাতে হালকা শীত পড়ছে।

আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের কারণে শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।