৫০ শয্যার চিকিৎসক দিয়ে চলছে নাটোর সদর হাসপাতালের ১০০ শয্যার চিকিৎসাসেবা। ফলে জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা মিলছে না এ হাসপাতালে। ওয়ার্ডে শয্যা সংকটে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বারান্দা ও মেঝেতে থাকায় রোগীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে থেকেও দেখা মিলছে না চিকিৎসকের। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাড়ি ফিরছে রোগীরা। কর্তৃপক্ষের দাবি বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে কিছুটা অনিয়ম হলেও হাসপাতালে সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কাগজে-কলমে নাটোর সদর হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ৫০। পরবর্তী সময়ে ১০০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি চিকিৎসকসহ জনবল। বর্তমানে মোট ৩১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২২ জন। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর ৬৫ জনের পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৩৫টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪৪টি পদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ২৪টি।

হাসপাতালের প্যাথলজিতে একজন মাত্র টেকনোলজিস্ট কাজ করেন। তাই দুপুর ১২টার পর আর কোনো পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এ সময়ের পর কোনো রোগী এলে তাদের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।

সদর উপজেলার দস্তানাবাদ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সুমাইয়া জানান, সকাল ৮টা থেকে ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে বসে আছি। দুপুর হয়ে গেলেও চিকিৎসকের দেখা মেলেনি।

পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগী পার্বতী রানী জানান, দুইদিন হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছি। শয্যা না পাওয়ায় বারান্দায় জায়গা হয়েছে। কিন্তু মেঝেতে আছি তাই চিকিৎসকেরা পরামর্শ না দিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন।

সদর উপজেলার কাফুরিয়া থেকে শিশু ফাহিমকে নিয়ে সকালে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হন কেয়া। সব সেবা ঠিকমতো দিলেও রাইস স্যালাইন ও বায়োকিট নামে দুটি ওষুধ বাইরে থেকে কিনেছেন।

শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ চন্দনা দেব নাথ বলেন, যেসব ওষুধের সরবরাহ নেই শুধু সেই ওষুধ বাইরে থেকে আনতে হয়। এছাড়া ওষুধের মজুদ আছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসককে দেখিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে ওষুধ নিতে আসা সেলিম বলেন, প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসক দুই পাতা করে মোট চার ধরনের ওষুধের নাম লিখেছেন। আর ওষুধ পেয়েছি এক পাতা করে। চাইলে বলে আর নেই।

ফার্মেসি বিভাগের ইনচার্জ রেবেকা সুলতানা বলেন, সরবরাহ কম থাকায় রোগীদের কম করে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে চাহিদামতো দেয়া হবে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এম এ মোমিন বলেন, জেলার সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১২০০-১৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ১০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০ রোগী। বাধ্য হয়ে তাদের বারান্দা ও মেঝেতে রাখা হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে রোগীদের পরামর্শ দিতে দেরি হয়। ফলে চেম্বারের সামনে ভিড় করে রোগীরা।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার রায় জানান, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নয়জন চিকিৎসক কম। মাত্র একজন টেকনিশিয়ান দিয়ে চলছে প্যাথলজি বিভাগ। সরবরাহ কম থাকায় রোগীর পরামর্শপত্রের চাহিদামতো ওষুধ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসক আর হাসপাতালে ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় এমন অভিযোগ। তার পরও হাসপাতালে সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।