সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি ৬ ইঞ্চিতে পৌঁছলে ছোট লোকোমোটিভ দিয়ে লাইট ট্রায়াল রান করতে ট্রেন চলাচল শুরু করবে রেলওয়ে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দেড় ফুট লিফটিং বা উঁচু করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে রেলের প্রকৌশল বিভাগ।

রেলওয়ের প্রকৌশল ও পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের প্রায় দেড় কিলোমিটার রেলপথ পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ৫০০ মিটার রেলপথে পানির উচ্চতা ট্রেন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

রেললাইনের উপরে ৪-৫ ইঞ্চির বেশি পানিপ্রবাহ থাকলে লোকোমোটিভের ট্রাকশন মোটর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বুধবার রেলপথে সর্বোচ্চ ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত পানিপ্রবাহ ছিল।

আরো জানা যায়, রেলপথ থেকে পানি সরে গেলেও ৪-৫ দিনের পানিপ্রবাহের কারণে রেললাইনের পাথর, মাটি, রেলপাত ও স্লিপার সরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য ৩০০-৫০০ মিটার রেলপথের নিচে পাথর প্রবেশ করে লাইনটি দেড় ফুট বা ১৮ ইঞ্চি উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৬-৭ ওয়াগন পাথর আনতে একটি বিশেষ ট্রেন এরই মধ্যে কুমিল্লায় পৌঁছেছে। আজ থেকে রেললাইনে পাথর দেয়া ও লাইন উঁচু করার কাজ শুরু করবে প্রকৌশল বিভাগ।

তবে সাময়িক মেরামত দিয়ে ট্রেন সার্ভিস চললেও ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথ সংস্কার প্রকল্পের কাজ শুরু হলে রেলপথ প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সম্পূর্ণ লাইনটি (৪৭ কিলোমিটার) ৫ ফুট উঁচু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে প্রকৌশলীরা।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম, চট্টগ্রাম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় পানিতে ডুবে যাওয়া রেললাইন পরিমাপ করছি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রেললাইনের ওপর ৮ ইঞ্চি পানি ছিল। পানি ৫-৬ ইঞ্চিতে নেমে এলে ছোট লোকোমোটিভ দিয়ে ট্রায়াল রান করা হবে। ট্রায়াল রানে উত্তীর্ণ হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন সার্ভিস চালু করতে বাধা থাকবে না। তবে রেলপথটির অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি লিফটিং করে উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

রেললাইনের পানি নেমে গেলেও এ পথে ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলের পরিবহন বিভাগ। তাদের দাবি, এ রেললাইনটি দীর্ঘদিনের পুরনো। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর আগে সংস্কার করা হলেও রেললাইনের গতিবেগ ঘোষণা অনুযায়ী দিতে পারেনি প্রকৌশল বিভাগ। গত ছয় বছরের মধ্যে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও ষোলশহর-দোহাজারী পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করে মাত্র ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ তানভিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেললাইনটি শমসের পাড়া এলাকায় কিছুটা নিচু। উভয় পাশের একটি লেভেল ক্রসিং গেট ও একটি রেল সেতুর তুলনায় নিচু হওয়ায় এ অংশটি থেকে পানি সরে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে লাইনটি এলসি গেটের সমান উঁচু করা হবে। প্রায় দেড় ফুট উঁচু করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সঙ্গে পুরো লাইন সমান হয়ে যাবে। এজন্য পাথর এনে আজ থেকে কাজ শুরু করা হবে।’