দেশে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন ও পণ্য প্রচারের বিষয়ে আইনত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ৭৭ শতাংশ বিপণিবিতানে তামাক পণ্যের (বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, গুল ইত্যাদি) বিজ্ঞাপন ও প্রসারে কার্যক্রম দেখা গেছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং রংপুর মহানগরে পরিচালিত ‘সিনারিও অব টোব্যাকো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, প্রমোশন অ্যান্ড প্রডাক্ট ডিসপ্লে অ্যাট পয়েন্টস অব সেল ইন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর সিটি অব বাংলাদেশ’
শিরোনামের একটি পরিসংখ্যানগত গবেষণায় বিষয়টি উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস’-এর আর্থিক সহায়তায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য শাখা পরিচালিত গবেষণাটি চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপস্থাপন করা হয়।
তিনটি মহানগরীর ১ হাজার ৮১৬টি বিপণিবিতানের (দোকান) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামে এক হাজার, রাজশাহীতে ৪২৪টি এবং রংপুরে ৩৯২টি বিপণিবিতানের তথ্য রয়েছে। বিপণিবিতান হিসেবে রাস্তার পাশের দোকান, চায়ের দোকান, ছোট ও মুদি দোকান, সুপার শপ, সিগারেটের জন্য বিশেষায়িত দোকান এবং রেস্তোরাঁকে ধরা হয়েছে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করে ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, তিন মহানগরীর ৭৭ শতাংশ বিপণিবিতানে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রসারের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৮৫ শতাংশ, রাজশাহীতে ৭৭ শতাংশ এবং রংপুরে ৫৭ শতাংশ বিপণিবিতানে এ কার্যক্রমের দেখা মেলে। এ বিজ্ঞাপন ও প্রসার ১০টি উপায়ে করা হচ্ছে। দেয়ালে সাঁটানো ও ঝুলানো প্রচারপত্র এবং চিহ্নের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে ৬৮ শতাংশ বিপণিবিতানে। আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন মোড়কের মাধ্যমে ৬৬ শতাংশ, দেয়াল লিখন, ছাতা, বাক্স সজ্জা এবং পণ্যের প্রতিষ্ঠানের নামের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে ৫৩ শতাংশ বিপণিবিতান। ছোট প্রচারপত্রের মাধ্যমে ৩ শতাংশ, মূল্যছাড়ের মাধ্যমে ২ শতাংশ, পণ্যের সঙ্গে বিভিন্ন উপহার, বিনা মূল্যে পণ্যের নমুনা প্রদান, ভিডিও প্রদর্শনী, অন্য কোনো পণ্যের নাম ব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে ১ শতাংশের বেশি বিপণিবিতানে বিজ্ঞাপন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
গবেষণার বিষয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য শাখার প্রকল্প সমন্বয়ক এবং সহকারী পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, গবেষণাটি করার মূল লক্ষ্য হলো প্রদর্শনী বন্ধে সরকার যেন সুনির্দিষ্ট আইন করে। একই সঙ্গে সিঙ্গেল (এক শলাকা) বিক্রি বন্ধ করতে হবে। তাতে বিক্রয়ের প্রদর্শনী ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, দোকানে তামাক পণ্যের প্রদর্শন ও বিজ্ঞাপন বন্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এত বেশি দোকানপাট এবং ভাসমান দোকান যে, সব পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা কঠিন। মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে।










