সিরাজগঞ্জ শহরের মিরপুর এলাকায় অবস্থিত সরকারি খাদ্যগুদাম নির্মিত হয়েছিল প্রায় ৬০ বছর আগে। সেই পুরনো গুদামগুলোয়ই এখনো সংরক্ষণ করা হচ্ছে সরকারি ধান, চাল ও গম। এতে এসব খাদ্যশস্যের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মিরপুর এলাকায় ২ দশমিক ৮১ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে ১২টি লোকাল সাপ্লাই ডিপো (এলএসডি)। এসব গুদামের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ৬ হাজার টন থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০০ টন।
জেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, প্রতি বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় আমন ও বোরো মৌসুমে প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ টন ধান ও ৩১ হাজার ৫০০ টন চাল এবং প্রায় ৭০০ টন গম সংগ্রহ করা হয়। এসব সংরক্ষণ করা হয় জেলার সরকারি গুদামগুলোয়। জেলার নয়টি এলএসডিতে মোট ৪৪টি গুদাম রয়েছে, যার কার্যকর ধারণক্ষমতা প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ টন। রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও কাজিপুরের একটি করে গুদাম নির্মিত হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তবে বাকি গুদামগুলোর বয়স ৫০-৬০ বছরের মধ্যে।
গত তিন অর্থবছরে জেলায় ৯৯ হাজার ২১০ টন চাল, ১ হাজার ৫১৮ টন গম ও ২৫ হাজার ৯৩৭ টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩২৭ জনকে বছরে পাঁচ মাস কর্মাভাবকালীন প্রতি কেজি ১৫ টাকায় মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এছাড়া বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। কৃষকদের কাছ থেকে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের সময় আর্দ্রতা, গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদ স্বাভাবিক রাখার শর্তারোপ করা হয়। তবে এত পুরনো গুদামে এসব খাদ্যশস্য কতটা পুষ্টিমান ধরে রাখতে পারছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গুদামগুলো পুরনো হলেও নিয়মিত সংস্কার করা হয়। তাই খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খুব কম।’
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. রেজাউল হক বলেন, ‘৬০ বছর আগে নির্মিত গুদামে সংরক্ষণে সমস্যা হলে খাদ্যশস্যের আর্দ্রতা ও পুষ্টিমান নষ্ট হতে পারে। তাই নতুন গুদাম নির্মাণ জরুরি। তবে যদি স্যাঁতসেঁতে অবস্থা না থাকে এবং নিয়মিত সংস্কার করা হয়, তবে বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’
বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তরের চলাচল, সংরক্ষণ ও সাইলো বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একসময় এসব গুদামে লবণ সংরক্ষণ করা হতো। পরে এগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তবে কিছু গুদামে লবণের প্রভাবে খাদ্যের আর্দ্রতা ও গুণগত মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যে গুদামগুলো শুকনো ও পানি চুয়ায় না, সেখানে খাদ্যশস্য রাখলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। দেশজুড়ে সরকারি গুদামগুলো নিয়মিত সংস্কার ও মেরামত করা হয়। ফলে এসব গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখা সম্ভব।’










