রজনী খাতুনের তিন ছেলেমেয়ে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের মেয়ে রজনীর বিয়ে হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। প্রায় দুই দশক ধরে স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করতেন। মেজো ছেলে এসএম রোহান ইসলাম মাইলস্টোন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণী ও ছোট মেয়ে জুমজুম ইসলাম পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সেদিন দুপুরে মেয়েকে আনতে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রজনী খাতুন। আগুন লাগার খবর পেয়ে মেয়েকে খুঁজতে তিনি ছুটে যান ভবনের দিকে। কিন্তু তখনই একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ এসে আঘাত করে তার মাথায়।

রজনীর স্বামী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে ছিলাম ব্যবসার কাজে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন। ছেলেমেয়েদের খোঁজ পেলেও স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। পরে এক আত্মীয় ফোন করে জানান, সামরিক হাসপাতালে একটি মরদেহ আছে। গিয়ে দেখি সে আমার রজনী। একটু দূর থেকেই তার শাড়ি দেখে চিনে ফেললাম। মাথার পেছনে ছিল গভীর আঘাত। শরীরে আগুনের ক্ষত ছিল না।’