সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ঝালকাঠি শহরের মধ্য দিয়ে একসময় জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অন্তত ২২টি খাল। সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি এসব খালের বেশির ভাগই গত দুই দশকে দখল ও দূষণের কারণে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে শহরের বুকে মাত্র চার-পাঁচটি খাল কোনো রকমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। টিকে থাকা খালগুলোও দূষণ ও দখলের ফলে নালায় পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, খালের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং অনিয়ন্ত্রিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বেঁচে থাকা খালগুলোও পানিপ্রবাহের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। খালগুলোয় পানির প্রবাহ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এ অবস্থায় গত বছরের ৫ আগস্টের পর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সাতটি খাল খননের উদ্যোগ নেয়। তবে তার প্রায় দেড় বছর পার হলেও খালগুলোর খনন এখনো শেষ হয়নি।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাসণ্ডা খালের কয়েকটি শাখা খাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোডাউনের খাল, বাঁশপট্টি খাল, থানার খাল ও জেলেপাড়া খাল। বাঁশপট্টি খালটি মাছবাজার, উপজেলা পরিষদ, শীতলা খোলা ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পেছন দিয়ে জেলখানার সামনে গিয়ে শেষ হয়েছে। এ খালের শাখা রয়েছে পাঁচটি—টাউন মসজিদ থেকে হালিমা বোর্ডিংয়ের পেছন পর্যন্ত ফকিরবাড়ি খাল, বাঁশপট্টি মন্দির থেকে আকন বাড়ি পর্যন্ত কাঠপট্টির খাল, মাছবাজারের পুল থেকে আমতলা গলি পর্যন্ত বাটার খাল, শোভা রানীর বাড়ি থেকে ফড়িয়াপট্টি পর্যন্ত কাশারিপট্টি খাল এবং নতুন কলাবাগান থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত কলাবাগান খাল।

সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া থানার খালটি শহরের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গিয়ে শেষ হয়েছে। জেলেপাড়া খালটি সুগন্ধা নদীর পুরনো কলেজ খেয়াঘাট থেকে উৎপত্তি হয়ে পূর্ব চাঁদকাঠি চৌমাথা হয়ে নতুন কলেজ রোডের বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে গিয়ে শেষ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থাপনা নির্মাণ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এসব খালে পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খালগুলো। এর ফলে বর্ষায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় দরিদ্র, দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষকে। স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল করিম হাওলাদার জানান, শহরের মূল কাপড়িয়াপট্টির খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়। খালটি ভরাট হয়ে এখন রাস্তা সমান হয়ে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই খাল ও ড্রেনের ময়লা পানি দোকানে উঠে যায়। জলাবদ্ধতার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে অনেকে আবার হাঁটুসমান পানির মধ্য দিয়ে বাজারে আসে। পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করে যানবাহন।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন বলেন, ‘খালগুলো দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ ফেরাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধান সাতটি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। মৌসুম পরিবর্তনের কারণে মাঝে খননকাজ স্থগিত ছিল। এখন আবার খনন শুরু করা হবে।’