বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এখন দেশে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আন্দোলন হচ্ছে। কেন জানি মনে হয়, দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য কিছুসংখ্যক লোক পেছন থেকে কাজ করছে। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।’
গতকাল দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরে বেসরকারি সংস্থা মানবকল্যাণ পরিষদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যেন আবার অন্ধকারের দিকে চলে না যাই। আমরা যেন নিজেদের মধ্যে বিভেদ-অনৈক্য সৃষ্টি করে চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ি। এমনটা হলে দেশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অনেকে এটা ছড়িয়েছে, আমরা নাকি কোরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না। নাউজুবিল্লাহ। আমরা সবসময় কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই। আমরা কমিটেড, অঙ্গীকারবদ্ধ। এ দেশে আমরা কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্ট আমরা সব সময় করে এসেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই নির্বাচনে আপনারা নির্ধারণ করবেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই দেশ কারা পরিচালনা করবে। তাই এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে তারা (আওয়ামী লীগ) ধ্বংস করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। শুধু কিছুসংখ্যক ব্যক্তিকে ধনী করার জন্য তারা ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে। সামগ্রিকভাবে গোটা দেশের মানুষকে তারা বঞ্চিত করেছে।’
আওয়ামী লীগকে নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতা পেয়ে চিরস্থায়ী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে। আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তাদের ফাঁসি দিয়ে শহীদ করা হয়েছে। সেই সময় আপনারা কেউ নিরাপদে ছিলেন না। রাস্তাঘাটে আপনারা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেননি। আপনারা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতেন, কখন আপনাদের জঙ্গি বলে ধরে নিয়ে যায়।’
সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।










