এর মধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) একটি অনুমোদনহীন প্রকল্পের কারণে নদীটির কৌশলগত অংশে নাব্যতা হ্রাস ও নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এক গেজেটে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট এলাকাকে ‘কক্সবাজার নদীবন্দর’ ঘোষণা করে। একই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) এর সংরক্ষক বা কনজারভেটর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর যৌথ জরিপের মাধ্যমে বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। আইন অনুযায়ী, এ সীমানার ফোরশোর (নদীতীরবর্তী সরকারি জমি) এলাকায় অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা জমির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পোর্ট রুলস, ১৯৬৬-এর ৫৪, ৫৫ ও ৫৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নদীবন্দরের ফোরশোর এলাকায় যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ, খননকাজ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য কনজারভেটরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তবে বিআইডব্লিউটিএর অভিযোগ, বিএফডিসি কোনো অনুমতি ছাড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থাপনা ও দুটি বৃহৎ পন্টুন নির্মাণ করেছে, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল। গত ৯ জুন বিআইডব্লিউটিএ এক চিঠিতে এ অনুমোদনহীন স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন বা ইজারাকৃত জমিতেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) নয়ন শীল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি গেজেট অনুযায়ী বাঁকখালী নদীবন্দরের কনজারভেটর বিআইডব্লিউটিএ। আইন অনুযায়ী নদীর ফোরশোরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি কোনো স্থাপনা করতে পারবে না। দখল ও বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে এমনিতেই বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন অংশে পলি জমে চ্যানেল সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন মৎস্য বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে একাধিক ভারী কাঠামো নির্মাণের ফলে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত এসব কাঠামো না সরানো হলে কস্তুরাঘাটসহ সমগ্র বাঁকখালী নদীর চ্যানেলের নাব্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পলি জমে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছয় দশক আগে নির্মিত বিএফডিসির সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে পড়ার পর দীর্ঘদিন সংস্কারহীন ছিল। সম্প্রতি জাইকার ১৭২ কোটি ৩১ লাখ টাকা অনুদানসহ মোট ২৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়, যা ২০২৪ সালে একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের অধীনে মৎস্য আহরণ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত অবতরণ, প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে সামুদ্রিক মাছ রফতানির গুণগত মান বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এদিকে বিএফডিসির দাবি, মৎস্য অবতরণ এলাকায় তাদের ৩ দশমিক ৭ একর ভূমি রয়েছে। ফলে এ ভূমিতে পন্টুন ও জেটি নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে অন্য কোনো সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

পন্টুন ও জেটি নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএর আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিকায়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. রাজিবুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জাইকার অর্থায়নে দেশের অন্যতম সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণের কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।’