অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষক। গত বছর তরমুজে বেশ লাভ হওয়ায় এবার পতিত জমিতেও তরমুজ চাষে নেমেছেন অনেকে। পাশাপাশি বেড়েছে বোরো ধানের আবাদও। মাঠে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। এ সুযোগে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষক অভিযোগ করেছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তরমুজে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ আড়াই মাস। প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১২-১৪ হাজার টাকা। তরমুজ বিক্রি হয় ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়। অন্যদিকে আমন ধানের বীজ বোনা থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তুলতে পাঁচ মাস সময় লাগে। প্রতি বিঘা আমন উৎপাদনে ৯-১১ হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকায়। সেক্ষেত্রে প্রতি বিঘায় আমন আবাদে লাভ হয় সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা।

কৃষক বলছেন, তরমুজ ও বোরো ধান চাষে ইউরিয়া, পটাশ, ড্যাব সারের প্রয়োজন হয়। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারনির্ধারিত মূল্য ৮০০ টাকা, পটাশ ৭৫০ ও ড্যাব ৮০০ টাকা। কিন্তু সব ধরনের সার কিনতে কৃষকদের বস্তাপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, সারের কোনো সংকট নেই। কারো বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জরিমানাসহ বাতিল করা হচ্ছে ডিলারশিপ।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দাকোপ উপজেলায় গত বছর তরমুজের চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর আর বোরো ধানের চাষ হয়েছিল ১৯০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর এ উপজেলায় ৪ হাজার ১৯৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। আর বোরো ধানের চাষ হচ্ছে ২৫ হেক্টর বেশি জমিতে। অন্যদিকে বটিয়াঘাটা উপজেলায় এ বছর তিন হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ ও ছয় হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর সাড়ে ৮০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেড়েছে।

দাকোপের পশ্চিম বাজুয়ার অনিল জোয়াদ্দার বলেন, তরমুজ মৌসুমে সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, অনেক কৃষক বিভিন্ন কোম্পানির সার কিনতে বেশি পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে হয়তো ব্যবসায়ীরা কিছুটা বেশি দামে সার বিক্রি করতে পারেন। সেজন্য নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের রণজিৎ বিশ্বাস বলেন, তরমুজ ও বোরো আবাদ মৌসুমে সারের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দোকানিরা। প্রতি বস্তা সার সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫০-৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সারের সংকট নেই।