লালন ভক্ত ও অনুরাগীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ি। ভজন সাধনে লালনকে স্মরণ করছেন ভক্তরা। লালনের গান ও আলোচনার পাশাপাশি কালী নদীর তীরে বসেছে গ্রামীণ মেলা। গতকাল আখড়াবাড়িতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লালনভক্ত ও অনুসারীরা নেচে গেয়ে স্মরণ করেন গুরুকে।
দ্বিতীয় দিনে সাঁইজির বিভিন্ন আধ্যাত্মিক, দেহতত্ত্ব ও ভাবতত্ত্ব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন খ্যাতিমান লেখক ও গবেষকরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লালনের গান ও চিন্তাকে কেবল গানের আসরে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই মানুষ শিখবে পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও অহিংস মনোভাবের চর্চা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘লালন বিশ্বাস করতেন, জ্ঞান কিংবা সত্য কোনো নির্দিষ্ট বই বা ধর্মীয় মতবাদের একচেটিয়া সম্পদ নয়। ধর্মীয় গাম্ভীর্য সব জ্ঞানকে সহজবোধ্য করে না। এজন্যই তার সাধনা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি লিখিত মতবাদ গঠনের চেয়ে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ার মতো ভাষা ও ভঙ্গিকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি যেসব গানের জন্ম দিয়েছিলেন, তা ছিল মানুষের মুখে মুখে ফেরার উপযোগী; সহজ ভাষায়, বাচ্যে ও বচনে সর্বদা মননে বহনযোগ্য। সহজবোধ্য হওয়ায় লালনের চিন্তাগুলো জাত, পাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অন্তরে দ্রুত প্রবেশ করেছে এবং বিষয়বস্তুর কারণে মানুষের কাছে স্মরণযোগ্য হয়ে উঠেছে।’
এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালনের তিরোধান দিবস। লালন একাডেমি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লয়ে গোধন গোষ্ঠের কানন, চল গোকুলবিহারী, গোষ্ঠে চলো হরিমুরারি; ওরে ও ভাই কেলে সোনা, চরণে নুপুর দে না; মাথায় মোহন চোরা নে না, ধড়া পর বংশীধারী।’ লালনের এ গানের সঙ্গে দই, চিড়া, মুড়ি, পায়েস আর ফল দিয়ে প্রস্তুত করা খাবার ‘বাল্যসেবা’ গ্রহণ করে গত বৃহস্পতিবার সকালে সাধন-ভজনে মগ্ন হয়েছিলেন সাধু-গুরুরা। গতকাল দুপুরের পর মাছ, ভাত, সবজি, ডাল আর দই দিয়ে খাবার ‘পূণ্যসেবা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাধু-গুরুর আধ্যাত্মিক আচার অষ্টপ্রহরের ‘সাধুসঙ্গ’ শেষ করেন। এর মাধ্যমেই শেষ হয় লালনের ১৩৫তম তিরোধান দিবসের উৎসবে আসা সাধক ফকির ও বাউলদের মূল অনুষ্ঠান। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান শেষ হবে আজ মধ্যরাতে।










