আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দিতে ইসিকে প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দলটির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিনের এ সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘নির্বাচনে কয়েক লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা প্রয়োজন। ইসির এত লোকবল নেই। কিন্তু যতটুকু আছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। ৩০০ আসনে সরকারের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ধার করে আনা হয়। ইসির এটুকু জনবল আছে। একবার সাহস করে এ সিদ্ধান্ত নেন যে রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশন থেকে থাকবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশনের ডেডিকেটেড লোকেরা হবেন। এ একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করাই রাজনৈতিক দলের প্রধান করণীয়। নির্বাচন কমিশনকে তার ক্ষমতা প্রয়োগে দৃঢ় হতে হবে।’ তিনি আচরণবিধি সহজ ও বাস্তবসম্মত করার পক্ষে মত দেন এবং বলেন, ‘মানুষ সচেতন হলে অতিরিক্ত নিয়মের প্রয়োজন পড়ে না।’

ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে তার দলের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আচরণবিধির ৯ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা এবং বৈষম্য এড়ানো। আমরা এরই মধ্যে বলেছি যে ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।’

সংলাপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘ভোটের মাঠের মতো অনলাইন প্লাটফর্মেও সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) গুরুত্বপূর্ণ। নানাভাবে অনেকের চরিত্র হনন, মিস ইনফরমেশন (মিথ্যা তথ্য), ডিস ইনফরমেশন (অপতথ্য), এআই ব্যবহার করে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি ইসির অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং উপজেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা; প্রয়োজনে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলা; বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ও সাবেক সচিব মো. জকারিয়া।